প্রকাশিত: ৯:৪৮ অপরাহন, অক্টোবর ৫, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
খুচরা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একলাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। একই সঙ্গে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও লিটারে প্রায় ১২ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
রোববার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
হঠাৎ দাম বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে বিইআরসি জানিয়েছে, সৌদি আরামকোর অক্টোবর মাসের প্রোপেন ও বিউটেনের সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস (সৌদি সিপি) অনুযায়ী এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
বিইআরসির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অক্টোবরে প্রোপেনের সৌদি সিপি প্রতি টন ৬৮০ ডলার এবং বিউটেনের ৭৩০ ডলার। দাম সমন্বয়ের সময় প্রোপেন ও বিউটেনের অনুপাত ৩৫:৬৫ ধরে গড় সৌদি সিপি প্রতি টন ৭১২ দশমিক ৫০ ডলার বিবেচনা করা হয়েছে।
সেপ্টেম্বরে প্রোপেনের সৌদি সিপি ছিল প্রতি টন ৬২৫ ডলার এবং বিউটেনের ৬৬০ ডলার। ওই মাসে গড় সৌদি সিপি ছিল ৬৪৭ দশমিক ৭৫ ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে গড় সৌদি সিপি প্রতি টনে ৬৪ দশমিক ৭৫ ডলার বেড়েছে।
এলপিজির অক্টোবরের মূল্য সমন্বয়ে আমদানির জাহাজ ভাড়া ও ব্যবসায়ীর প্রিমিয়াম হিসেবে টনপ্রতি ২৫০ ডলার বিবেচনা করেছে বিইআরসি। সেপ্টেম্বরে এ খাতে ধরা হয়েছিল টনপ্রতি ১৬০ ডলার। ফলে এক মাসের ব্যবধানে এ ব্যয় টনপ্রতি ৯০ ডলার বেড়েছে।
এ ছাড়া অক্টোবরের দাম নির্ধারণে প্রতি ডলারের গড় বিনিময় মূল্য ১২৩ টাকা ১৮ পয়সা ধরা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে যা ছিল ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা।
এলপিজির সঙ্গে অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজারে সরবরাহ সংকট
এলপিজির দাম বাড়ানোর পরও বাজারে সরবরাহ সংকট কাটেনি। বেশিরভাগ জায়গায় ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এলপিজির সঙ্গে অটোগ্যাসের দাম বাড়ায় পরিবহন খাতেও চাপ তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত দামের কারণে শুধু আবাসিক গ্রাহক নয়, বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীরাও চাপে পড়েছেন।
এলপিজির বাজারের অস্থিরতার জন্য ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা একে অপরকে দায়ী করছেন।
এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অভিযোগ, ২০ সেপ্টেম্বরের পর আমদানিকারকরা সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। ২৫ সেপ্টেম্বরের পর কয়েকটি ডিপো থেকেও সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের।
তবে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আমদানিকারকরা। তাদের দাবি, কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।