Print

সারাদিন

ফ্যাসিস্টদের বিচার আগে, এরপর জাতীয় পুনর্মিলন : ডেপুটি স্পিকার

প্রকাশিত: ১০:০৯ অপরাহন, অক্টোবর ৫, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ফ্যাসিস্টদের বিচার আগে, এরপর জাতীয় পুনর্মিলন। বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সরকার অবশ্যই আইনের শাসন নিশ্চিত করবে এবং জুলাই-আগস্টের হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনবে।

আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’ এ ‘মহাসংলাপ : ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও জাতীয় পুনর্মিলন’ সেশনে দেওয়া বক্তৃতায় ডেপুটি স্পিকার এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের আইনি পরিণতি থেকে আড়াল করার প্রচেষ্টার কারণেই বিশ্বব্যাপী জাতীয় পুর্নমিলন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হচ্ছে। আমাদের বিচারিক এবং রাজনৈতিক কাঠামোগুলোকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে নিশ্চিত করা যায়—এসব কাঠামো শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তে সাধারণ নাগরিকের সেবায় নিয়োজিত থাকবে। এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশে ৫ আগস্ট বা তার পূর্ববর্তী সময়ের দিনগুলোতে যা ঘটেছিল তা কেবল সরকার পরিবর্তনের ঘটনা ছিল না বরং তা ছিল আমাদের রাজনৈতিক কাঠামোর এক মৌলিক পুনঃসংজ্ঞায়ন। এ সময় নাগরিকরা আইনের শাসনকে উপেক্ষা করা এবং নাগরিক স্বাধীনতা দমন করা শাসনব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। জনগণ লড়াই করেছিল গণতান্ত্রিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য। তারা নজির স্থাপন করতে চেয়েছিল যাতে বাংলাদেশে আর কেউ কোনদিন স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা কায়েম করার দুঃসাহস না দেখায়।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ৫ আগস্টের ক্ষমতাচ্যুত শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সমঝোতার কোনো অবকাশ নেই। তারা আমাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের অংশ হওয়ার যোগ্যতা চিরতরে হারিয়েছে। জনগণের সুরক্ষার জন্য গড়ে তোলা রাষ্ট্রযন্ত্রকে যারা পরিকল্পিতভাবে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিল তাদের সঙ্গে কোনো সমঝোতা নয়।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধের লড়াইয়ে এমন সব শক্তিশালী ও স্থিতিস্থাপক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন, যা স্বৈরাচারীদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে রুখে দিতে সক্ষম। বাংলাদেশে আমরা বর্তমানে সেই নতুন ভিত্তিগুলো গড়ে তুলছি। আর এ প্রক্রিয়ায় রাজপথে যে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে, সে সম্পর্কে আমরা গভীরভাবে সচেতন। আমরা এমন এক ভবিষ্যতের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যেখানে সরকার কাঠামোগতভাবেই জবাবদিহিতার আওতাভুক্ত থাকবে, যাতে স্বৈরতন্ত্রের অধ্যায়গুলো চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

Nagad
Nagad

সেশনে অন্যান্যদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন সাউথ এশিয়া স্টাডিজ সেন্টার ইউনিভার্সিটি অব রাজস্থান, ভারতের প্রফেসর করোরি সিং, নিউ এইজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবীর, দক্ষিণ আফ্রিকার উইটস ইউনিভার্সিটির গবেষক মাদালিৎসো জিলিলো ফিরি এবং কলম্বিয়ার সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নিকি সিঙ্গার।