প্রকাশিত: ১০:৩৮ পূর্বাহ্, অক্টোবর ৬, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
ইয়েমেনের হুতিদের হামলাসহ সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি সাম্প্রতিক হুমকি মোকাবিলায় মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। এর আওতায় সৌদি আরবে সম্মত সামরিক বাহিনী ও প্রয়োজনীয় সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সৌদি রাজধানী রিয়াদে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের কৌশলগত-রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ৭ আগস্ট মক্কায় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের পর এবারই প্রথম জোটটির যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলো।
বৈঠকের পর দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, তিন দেশ সম্মত সামরিক বাহিনী ও প্রয়োজনীয় সক্ষমতা সরবরাহ এবং সেগুলো দ্রুত সৌদি আরবে মোতায়েন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এসব পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অনুমোদিত ব্যবস্থা ও জাতীয় আইনের আওতায় নেওয়া হবে।
জোটের সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তাকে পারস্পরিক নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন জোটের প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করবে এবং তিন দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করবে বলে জানানো হয়েছে।
সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান জানিয়েছেন, সৌদি আরব ও পবিত্র স্থানগুলোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার পর জোটের কাঠামোর আওতায় সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সক্রিয় করতে সম্মত হয়েছে কমিটি।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় কী ধরনের সহযোগিতা দেওয়া যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সংকটের শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি লেফটেন্যান্ট জেনারেল নওমান মাহমুদকে তিন বছরের জন্য মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ করা হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার মধ্যেই জোটের এই সিদ্ধান্ত এলো। হামলার জবাবে সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদারে পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি এখন জোটের কাঠামোর আওতায় বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে।
তবে ঠিক কতসংখ্যক সেনা বা কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সৌদি আরবে মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে বৈঠকের পর প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।