প্রকাশিত: ৬:২৭ অপরাহন, অক্টোবর ৬, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
রাজধানী ঢাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের বিষয়ে শিগগিরই নীতিমালা করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। নীতিমালার আলোকে প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের খনন ও উন্নয়নকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যত্রতত্র ও নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলাচল করছে। এতে নগরীর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে অটোরিকশার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। নীতিমালার আওতায় প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
অটোরিকশাচালকদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেকে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত। ফলে তাদের ওপরও প্রভাব পড়বে। তবে বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে একমত হয়ে এই অব্যবস্থাপনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, ‘নীতিমালার কাজ চলমান। অল্প সময়ের মধ্যেই নীতিমালা পেয়ে যাবেন।’
ঢাকার পরিবহনব্যবস্থাকে কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থে অচল হতে দেওয়া হবে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে একটি নীতিমালার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার।
এদিকে সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকেরা বিক্ষোভ ও মিছিল করেন। পরে তারা মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রেস ক্লাব ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ বা নির্বিচারে ডাম্পিং করা হলে ঢাকা অবরুদ্ধ করার হুঁশিয়ারি দেন মালিক-শ্রমিক নেতারা। পাশাপাশি অটোরিকশার চার্জিং পয়েন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করার ঘোষণাও দেন তারা।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ না করে চালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈধ লাইসেন্স ও রোড পারমিটের আওতায় আনতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা মালিকদের গাড়ি যাচাই করে বৈধতার সুযোগ দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
অনুষ্ঠানে ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও কথা বলেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। তিনি জানান, লেকের খনন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ৮৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। প্রকল্পের আওতায় লেকের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি ‘নজরুল মঞ্চ’ নির্মাণ করা হবে। সেখানে লাইব্রেরি স্থাপনের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ থাকবে।