Print

সারাদিন

এল নিনোয় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা করবে আইএমএফ

প্রকাশিত: ৮:৫৪ পূর্বাহ্, অক্টোবর ৮, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

‘এল নিনো’র প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে সহায়তা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একই সঙ্গে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এসব কথা বলেন।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক বৈশ্বিক জলবায়ু পরিস্থিতি। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এর প্রভাব দেখা যায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন হতে পারে।

আবহাওয়াবিদদের ধারণা, চলতি বছরের এল নিনো আধুনিক সময়ে দেখা সবচেয়ে তীব্র পরিস্থিতিগুলোর একটি হতে পারে। এর প্রভাবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে খরার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাতের ধরন ব্যাহত হচ্ছে। এতে দুই অঞ্চলেই কৃষি ও ফসল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সিঙ্গাপুরে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, চলতি বছরের এল নিনোর প্রভাব নিয়ে আইএমএফ খুবই উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে খাদ্য নিরাপত্তা এবং খাদ্যের দাম বাড়ার কারণে সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

Nagad
Nagad

তিনি বলেন, দেশগুলোকে তাদের সীমিত আর্থিক ও রাজস্ব সক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে কিছু দেশকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাইরের অর্থায়নের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বাইরের বড় ধরনের প্রতিকূলতার মুখে দুর্বল দেশগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া সংস্থাটির অন্যতম দায়িত্ব। এল নিনো বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা দিলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে আইএমএফ প্রস্তুত হচ্ছে।

জর্জিয়েভা ‘দ্বৈত বাহ্যিক ধাক্কার’ ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন। একদিকে এল নিনোর প্রভাব, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, কিছু দেশ হয়তো এ ধরনের চরম পরিস্থিতির ধাক্কা সামলে নিতে সক্ষম হবে। তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলো, বাংলাদেশের মতো তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ এবং লাওসের মতো দরিদ্র দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হতে পারে। এ কারণে সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।