Print

সারাদিন

গাড়ি আটকে গুলি, দুই বস্তা টাকা লুট

প্রকাশিত: ১১:০০ অপরাহন, অক্টোবর ৯, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

গাজীপুরের শ্রীপুরে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের কর্মীদের বহনকারী একটি প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পরে গাড়িতে থাকা তিনটি বস্তার মধ্যে দুটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্রীপুর-গোসিংগা আঞ্চলিক সড়কের কর্ণপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে চারজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের পেটে গুলি লেগেছে। লুট হওয়া টাকার পরিমাণ প্রাথমিকভাবে প্রায় তিন কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হামলার শিকার ব্যক্তিরা বিকাশের তিন কর্মকর্তা ও তাঁদের গাড়িচালক। তাঁরা নরসিংদীর বিভিন্ন বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে মাওনায় ফিরছিলেন।

হামলার শিকার ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, নরসিংদীর বিভিন্ন এজেন্টের কাছ থেকে চার কোটি টাকা সংগ্রহ করে তিনটি বস্তায় ভরে গাড়িতে রাখা হয়েছিল। ঢাকা মেট্রো-গ ৩৫-০৭০১ নম্বরের প্রাইভেটকারটি মাওনার দিকে যাওয়ার পথে কর্ণপুর গ্রামের বনবেষ্টিত সড়কে পৌঁছালে ১০ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাঁদের পথ আটকে দেয়।

এরপর গাড়ির কাচ ভেঙে ভেতরে থাকা বিকাশের ক্যাশ ম্যানেজার হিমেলের পেটে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। অন্য দুই কর্মকর্তা ও গাড়িচালককেও পিটিয়ে আহত করা হয়। এরপর গাড়ির পেছনে রাখা তিনটি বস্তার মধ্যে দুটি নিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

গুলিবিদ্ধ হিমেলের বয়স ৩৫ বছর। তিনি মাওনা এলাকার বিকাশের ক্যাশ ম্যানেজার। আহত অন্যরা হলেন ভালুকা এন্টারপ্রাইজ শ্রীপুরের ডিসিএম ফাহাদ হোসেন (৩০), মাওনা বিকাশের সুপারভাইজার রিফাত আহমেদ (২০) এবং গাড়িচালক লাল মিয়া (২৫)।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত ব্যক্তিরা শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় হিমেলকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

Nagad
Nagad

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অনিক সরকার জানান, আহত চারজন হাসপাতালে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজনের পেটে গুলির ক্ষত ছিল। তাঁর অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্য তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, হামলার শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনো নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন না। চার কোটি টাকা পরিবহনের জন্য পুলিশি নিরাপত্তাও নেওয়া হয়নি। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাইভেটকারে থাকা তিন বিকাশকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।