Print

সারাদিন

বাংলা কিউআরে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন শুরু নভেম্বরে: গভর্নর

প্রকাশিত: ৯:২৮ পূর্বাহ্, অক্টোবর ১১, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

বাংলা কিউআর ব্যবস্থায় আগামী নভেম্বর থেকে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেন চালু হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় বিভিন্ন পেশার মানুষ নিজস্ব কিউআর কোড ব্যবহার করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ গ্রহণ ও লেনদেন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) বাংলা কিউআরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি পরিশোধ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ওয়ান ব্যাংক পিএলসি ও ইউআইইউ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

গভর্নর বলেন, বাংলা কিউআর বাস্তবায়নের কার্যক্রম চারটি ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে এ-সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে সবার জন্য বাংলা কিউআর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে ব্যবস্থাটির কার্যক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত এ লেনদেনব্যবস্থা যাতে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক লেনদেন পরিচালনা করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে।

মোস্তাকুর রহমান জানান, দেশের জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) ব্যবস্থায় প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৩০০টি লেনদেন পরিচালনার সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছে। অন্যদিকে মাস্টারকার্ডের ব্যবস্থায় প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ এক হাজারটি লেনদেন পরিচালনা করা সম্ভব।

প্রায় ১০০টি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত এ প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। গভর্নর বলেন, বাংলা কিউআর সবার জন্য বাধ্যতামূলক করার পর এর কার্যক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখা গেছে।

Nagad
Nagad

তিনি বলেন, গত ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ ব্যবস্থায় লেনদেনের মাশুল শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে।

গভর্নরের ভাষ্য, দুই হাজার, পাঁচ হাজার, এক লাখ কিংবা দুই লাখ টাকা—যেকোনো অঙ্কের লেনদেনেই কোনো মাশুল দিতে হবে না।

আগামী নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআর বাস্তবায়নের চতুর্থ ধাপ শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ পর্যায়ে একজন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে বাংলা কিউআর ব্যবহার করে অর্থ পাঠাতে পারবেন।

দৈনিক লেনদেন বেড়ে ১৮০ কোটি টাকা

বাংলা কিউআরের ব্যবহার বৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরে গভর্নর বলেন, গত জুনের প্রথম সপ্তাহে এ ব্যবস্থায় দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৭ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে তা বেড়ে প্রায় ১৮০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ চার গুণেরও বেশি বেড়েছে।

তবে এ অগ্রগতিকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন মোস্তাকুর রহমান। বাংলা কিউআরকে আরও কার্যকর পর্যায়ে নিতে দৈনিক প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার লেনদেন প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

বাংলা কিউআর নিয়ে দেশের বাইরেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় গুগল, মেটা ও হুয়াওয়ের প্রতিনিধিরা এ ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বাংলা কিউআরের সম্প্রসারণের মাধ্যমে সহজে ও বিনা মাশুলে ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার এবং নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমাতেও এ ব্যবস্থা ভূমিকা রাখতে পারে।