Print

সারাদিন

আমাকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছিল : ধ্রুব রাঠি

প্রকাশিত: ২:৩২ অপরাহন, অক্টোবর ১১, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি অভিযোগ করে বলেছেন, তাকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি, বরং বাড়ি থেকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছিল। দিল্লিতে আটকের পর মুক্তি পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ অভিযোগ করেন।

ধ্রুব রাঠির দাবি, গত ১০ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে তিনি নিজের শোবার ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় সাধারণ পোশাকে প্রায় ২০ জন তার বাড়িতে ঢুকে তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির বাইরে আরও ৫০ জনের বেশি লোক অবস্থান করছিলেন।

ভিডিও বার্তায় রাঠি বলেন, আমাকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি, আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল।

ধ্রুব দাবি করেন, তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের পরিচয় দেননি, গ্রেপ্তারের কারণ জানাননি কিংবা কোনো আইনি ধারার কথাও বলেননি। এমনকি তাকে স্যান্ডেল পরার সুযোগ না দিয়েই একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাঠির ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে একাধিক থানায় নেওয়া হয়। এ সময় তার মুঠোফোন এবং তার বাবা-মায়ের ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে থানায় আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। প্রায় ২২ থেকে ২৩ ঘণ্টা তাকে আটকে রাখা হয়েছিল বলে জানান এই ইউটিউবার।

ভিডিওতে নিজের ভারতীয় পাসপোর্ট দেখিয়ে ধ্রুব রাঠি বলেন, আমি ভারতের নাগরিক এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

Nagad
Nagad

তাকে আটক করার পেছনে বিদেশি পাসপোর্টের বিষয়টি কারণ হিসেবে তুলে ধরে কিছু সংবাদমাধ্যম যে তথ্য প্রচার করছে, তা মিথ্যা বলেও দাবি করেন তিনি।

রাঠির দাবি, তিনি কোনো আইন ভঙ্গ করেননি। বরং দেশের স্বার্থে সত্য কথা বলা এবং একটি উন্নত নির্বাচন কমিশনের দাবি তোলার কারণেই তাকে এভাবে হয়রানি করা হয়েছে।

নিজের আটকের ঘটনাকে গণতান্ত্রিক অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করে ধ্রুব রাঠি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।

রাঠি বলেন, আপনারা কি এমন কোনো গণতান্ত্রিক দেশের কথা শুনেছেন, যেখানে কোনো আইন ভঙ্গ না করা একজন সাধারণ নাগরিককে শুধু সত্যের পক্ষে কথা বলার কারণে তার শোবার ঘর থেকে তুলে নেওয়া হয়?

রাঠির অভিযোগ, ভারতে কার্যত ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ চলছে। তার দাবি, শুধু তাকেই নয়, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাসহ বহু রাজনৈতিক নেতা ও বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছিল।

ধ্রুব আরও বলেন, তার মুক্তির পরও বাড়ির আশপাশে লোকজন নজরদারি করছে। এ কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। পরিস্থিতিকে তিনি কার্যত ‘অনানুষ্ঠানিক গৃহবন্দিত্ব’ বলে বর্ণনা করেন।

ভিডিওর শেষ দিকে রাঠি বলেন, তাকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না। বরং যত বেশি দমন-পীড়ন চালানো হবে, মানুষের প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর তত জোরালো হবে।

তার মুক্তির দাবিতে সমর্থন জানানো এবং আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকসহ সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান। ভবিষ্যতেও দেশের স্বার্থে নিজের বক্তব্য তুলে ধরবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি।

উল্লেখ্য, দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে ১০ অক্টোবর ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আটক অভিযান চালানো হয়। এদিন ধ্রুব রাঠিকেও তার গুরুগাঁওয়ের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ভোটার তালিকা সংশোধনে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এ আন্দোলন শুরু হয়। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।