প্রকাশিত: ৫:৩০ অপরাহন, অক্টোবর ১১, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর অর্জন ও সাফল্যের পেছনে রয়েছে বাবা-মায়ের নির্ঘুম রাত, পরীক্ষার উদ্বেগ ও নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে দীর্ঘ পথচলার এক অসামান্য ত্যাগের গল্প।
রোববার (১১ অক্টোবর) ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি)-এর ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে মাহদী আমিন এ কথা বলেন।
সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এ ছাড়া সমাবর্তনে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আইইউটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজ সমাবর্তনে স্বাগত বক্তব্য দেন।
গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘আজ যে সার্টিফিকেটটি পেয়েছেন, তা আপনাদের একটি আলোকিত এবং সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করবে। তবে বর্তমানের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল অতীত, যেখানে রয়েছে বাবা-মায়ের দীর্ঘ ত্যাগের ইতিহাস। তাদের সেই অবদান ও সংগ্রামের কথা সবসময় স্মরণে রাখতে হবে।’
আইইউটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি তার বিশেষ ব্যক্তিগত অনুভূমি রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ফিলিস্তিনের মহান নেতা ইয়াসির আরাফাতকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই আইইউটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক এই প্রতিষ্ঠানের গ্র্যাজুয়েটরা দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও ব্র্যান্ডিং ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বহুবার এই ক্যাম্পাসে এসেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বেও শিক্ষা ও প্রযুক্তির এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা রোবোটিক্স ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারলেও প্রযুক্তিকে কীভাবে চালনা করা হবে তা মানুষের সুবুদ্ধি, সততা ও মূল্যবোধের ওপর নির্ভর করে। তাই কেবল ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সমাজ, মানবজাতি এবং নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। সিলিকন ভ্যালির বাইরে আইইউটি’র গ্র্যাজুয়েটদের মধ্য থেকেই প্রযুক্তির পরবর্তী যুগান্তকারী বিপ্লব সূচিত হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাহদী আমিন বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও মুসলিম বিশ্বের চ্যালেঞ্জ ও মূল্যবোধ এক। তাই জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে যৌথ স্বার্থে কাজে লাগিয়ে বিশ্বজুড়ে মানবতার কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ৬৫৯ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এ ছাড়া কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য সাতজন শিক্ষার্থীকে গোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়।
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আহমেদ রানী ‘ওআইসি গোল্ড মেডেল’ এবং অপর ছয়জন শিক্ষার্থী ‘আইইউটি গোল্ড মেডেল’ লাভ করেন। শিক্ষামন্ত্রী তাদের হাতে মেডেল ও সনদপত্র তুলে দেন।