Print

সারাদিন

ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়া যৌতুক নয়: হাইকোর্ট

প্রকাশিত: ৮:৩৩ অপরাহন, অক্টোবর ১১, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি করলেই তা আইনগতভাবে যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া দুই বছরের কারাদণ্ডের রায় বাতিল করে মো. রাসেল উদ্দিন নামে এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া মামলাটির ১২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় রোববার (১১ অক্টোবর) প্রকাশিত হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মুসলিম আইন অনুযায়ী মো. রাসেল উদ্দিনের সঙ্গে ইসমত আরা বেগমের বিয়ে হয়। অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট কক্সবাজার শহরের বাইতুশ শরফ মসজিদ রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন রাসেল। স্ত্রী টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁকে কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ রাসেল উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি তাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন আসামিপক্ষ।

আপিলের শুনানিতে মামলার নথি, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করেন হাইকোর্ট। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২(ঞ) ধারায় বিয়ের শর্ত বা বিবেচনা হিসেবে দাবি করা অর্থ বা সম্পত্তিকে যৌতুক হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

আদালত বলেন, মামলার বাদীসহ সাক্ষীদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, আসামি তাঁর ব্যবসার প্রয়োজনে টাকা চেয়েছিলেন। ফলে বিয়ের শর্ত বা বিবেচনার সঙ্গে সম্পর্কিত যৌতুকের দাবি হিসেবে ঘটনাটিকে গণ্য করার সুযোগ নেই। যৌতুক দাবির অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষও ব্যর্থ হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

Nagad
Nagad

শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রেও সাক্ষ্য-প্রমাণে অসংগতি পান হাইকোর্ট। বাদী জবানবন্দিতে ডান কাঁধ ও পিঠে আঘাত পাওয়ার কথা বললেও চিকিৎসকের বক্তব্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সনদে বাম কাঁধে আঘাতের তথ্য পাওয়া যায়। সাক্ষ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথির এই বৈপরীত্য নির্যাতনের অভিযোগকে সন্দেহের মুখে ফেলে বলে আদালত পর্যবেক্ষণ করেন।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট মামলাটিকে সাজানো ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতের দণ্ডাদেশ বাতিল করে মো. রাসেল উদ্দিনকে খালাস দেন।