প্রকাশিত: ৭:২২ পূর্বাহ্, অক্টোবর ১২, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রভাবে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত চাকরি নিয়ে বিদেশে গেছেন ৪ লাখ ১৭ হাজার ৮৭১ বাংলাদেশি। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৮০৪। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে বৈদেশিক কর্মসংস্থান কমেছে ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, করোনা মহামারির পর চলতি বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সবচেয়ে কম বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গেছেন।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবেও কর্মী যাওয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এর মধ্যে দেশটিতে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর হামলার ঘটনায় শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত দুই দিনে সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় অন্তত চার বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। দেশটির তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন, বিমানঘাঁটি ও বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। সূত্র: সমকাল
সৌদি আরবে কর্মী যাওয়া কমেছে ৫৫ শতাংশ
বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবে গেছেন ২ লাখ ১ হাজার ৩৬১ বাংলাদেশি কর্মী। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৫০ হাজার ৯০৭। অর্থাৎ, দেশটিতে কর্মী যাওয়ার হার কমেছে প্রায় ৫৫ শতাংশ।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ১ লাখ ৬০ হাজার ২৭৬ জন বাংলাদেশি চাকরি নিয়ে বিদেশে গেছেন। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৯১।
২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৬০ জন কর্মী বিদেশে যান। এর মধ্যে সৌদি আরবে কর্মসংস্থান হয় ৭ লাখ ৫৫ হাজার ১৯৪ জনের। মালয়েশিয়া, ওমান ও মালদ্বীপের শ্রমবাজার বন্ধ থাকলেও সৌদি আরবে বেশি কর্মী যাওয়ায় ওই বছর সামগ্রিক বৈদেশিক কর্মসংস্থান বেড়েছিল।
তবে চলতি বছরের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বিদেশে গেছেন ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৫৯৭ জন। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৫১ হাজার ৯৫। অর্থাৎ, চলতি বছরে এ সময় পর্যন্ত সামগ্রিক বৈদেশিক কর্মসংস্থান কমেছে প্রায় ৩২ শতাংশ।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজারও চাপে পড়েছে। এ অঞ্চলে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক কর্মসংস্থানের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ হয়ে থাকে। ফলে যুদ্ধ ও নিরাপত্তাঝুঁকি দীর্ঘস্থায়ী হলে কর্মী পাঠানোর পাশাপাশি প্রবাসীদের কাজ ও আয়ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থানের আগের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে পাঁচ বছরে এক কোটি চাকরির সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়। বাংলাদেশের বার্ষিক বৈদেশিক কর্মসংস্থানের প্রায় ৮০ শতাংশ এ অঞ্চলে হয়ে থাকে।
বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে গেছেন ১৯ হাজার ৮৭৪ বাংলাদেশি কর্মী। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৭৩১। তবে দেশটিতে একসময় বছরে দুই লাখের বেশি বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের নজির ছিল।
কুয়েতে চলতি বছরের একই সময়ে গেছেন ১৯ হাজার ৩৮৬ বাংলাদেশি কর্মী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৯ হাজার ৫৬০। কাতারে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা ৬৯ হাজার ৩৪১ থেকে কমে ৪১ হাজার ৫৭২ হয়েছে। ইরাকে গত বছরের ৩ হাজার ৯৮ জনের বিপরীতে চলতি বছর গেছেন ২ হাজার ৫৭৫ জন।
অন্যদিকে, জর্ডানে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা গত বছরের ৭ হাজার ৩২২ থেকে বেড়ে চলতি বছর ৯ হাজার ১৪৬ হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার ঘোষণা এলেও কর্মী পাঠানো শুরু হয়নি। ২০২৩ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে ওমানের শ্রমবাজার। সূত্র: সমকাল