Print

সারাদিন

চুয়েটে ২২ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্যসহ ১২ জন, বন্ধ বিদ্যুৎ-পানি

প্রকাশিত: ১২:২১ অপরাহন, অক্টোবর ১৩, ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল ও বর্তমান উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে উত্তাল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। শিক্ষার্থীদের অবরোধের মুখে টানা ২২ ঘণ্টা ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ রয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তাঁর সঙ্গে ভবনটিতে আটকে রয়েছেন চুয়েট শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাবেক শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১২ জন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত তাঁরা ভবন থেকে বের হতে পারেননি। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

অবরুদ্ধ প্রশাসনিক ভবনে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। এতে ভেতরে আটকে থাকা ব্যক্তিরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন অসুস্থ বোধ করছেন বলেও জানান তিনি।

উপাচার্য বলেন, “গতকাল থেকে ভবনের পানি ও বিদ্যুৎসহ সব সেবা বন্ধ রয়েছে। এখানে আটকে থাকা ব্যক্তিদের অধিকাংশের মোবাইল ফোন ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, বাকিদেরও যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যাবে। বিদ্যুৎহীন বদ্ধ পরিবেশে অনেকেই অসুস্থ বোধ করছেন। বিশেষ করে আমাদের দুজন অ্যালামনাই সদস্যের প্রেশার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসক ডেকে চিকিৎসা দিতে হয়েছে।”

শিক্ষার্থীদের দাবি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দাবি থাকলে তা আলোচনার টেবিলে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চান। প্রশাসন থেকে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাঁরা।

Nagad
Nagad

সোমবার রাতে ক্যাম্পাসে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বর্তমান উপাচার্যের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন। তাঁদের ঘোষণা, উপাচার্য পদত্যাগ করলেই প্রশাসনিক ভবনের তালা খোলা হবে। অন্যথায় সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত অবরোধ চলবে।

পরিস্থিতি নিরসনে সোমবার রাত ১১টার দিকে চুয়েট ক্যাম্পাসে যান রাউজান উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা। তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অবরুদ্ধ ভবনে অন্তত পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর অনুরোধ জানান। তবে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকেন।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চুয়েট ক্যাম্পাসে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। প্রশাসনিক ভবন থেকে অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের বের হওয়ার বিষয়ে কোনো সমাধান আসেনি।