প্রকাশিত: ১:৪৮ অপরাহন, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে পরিবেশবান্ধব তৈরি পোশাকশিল্প, মধ্যবিত্তের আবাসন, রং ও রঞ্জক উৎপাদন এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবা খাতে সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ। সংস্থাটির মতে, এসব খাতে বিনিয়োগের বাধা দূর করা গেলে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের বাংলাদেশবিষয়ক বেসরকারি খাতের মূল্যায়ন প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে এসব কথা জানানো হয়। ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভার অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘আনলকিং ইনভেস্টমেন্ট ফর জবস’ শীর্ষক অনলাইন আলোচনায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন সংস্থাটির বিশেষজ্ঞ সেবাস্তিয়ান বোয়াত্রো। আলোচনায় প্রশ্ন করেন বাংলা ট্রিবিউনের বিজনেস এডিটর গোলাম মওলা।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, আবাসন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে নির্মাণশিল্পে বছরে ২৩ লাখ ৭০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। দেশীয়ভাবে রং ও রঞ্জক উৎপাদন সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৬ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব। অন্যদিকে, ডিজিটাল আর্থিক সেবায় সংস্কারের মাধ্যমে ৯৬ হাজার থেকে ৪ লাখ ৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত সংস্কারের তাগিদ
বিশ্বব্যাংকের মতে, এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শুধু অর্থায়ন বাড়ালেই চলবে না; ব্যবসায়িক বাধা দূর করা, নীতিমালা সহজ করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোও জরুরি। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ধরে রাখতে এসব সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাংক খাতের সংস্কারে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূর করতেও ৪৫০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট–২’-এর আওতায় আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো এবং দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠনে সহায়তা দেওয়া হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংস্কার ও জরুরি তারল্য সহায়তার কাঠামো উন্নয়নও এ উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত।
বেসরকারি বিনিয়োগে আইএফসির ভূমিকা
বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাড়াতে কাজ করছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সদস্য প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি)। কোনো প্রকল্পে আংশিক অর্থায়নের মাধ্যমে অন্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার চেষ্টা করে প্রতিষ্ঠানটি। এতে প্রকল্পের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়তে পারে।
বিশ্বব্যাংকের আলোচনায় আরও বলা হয়, রাজনৈতিক ও নীতিগত অনিশ্চয়তা, ঋণঝুঁকি, মুদ্রার ওঠানামা এবং দুর্বল প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের পথে বড় বাধা। এসব ঝুঁকি কমাতে ২০২৪ সালে গ্যারান্টি প্ল্যাটফর্ম চালু করে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে বিনিয়োগের নিশ্চয়তাসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা এক জায়গায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ সংগ্রহে সংস্থাটির সহায়তার পরিমাণ গত চার বছরে তিন গুণের বেশি বেড়ে ২০২৬ অর্থবছরে ১১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং কার্যকর নীতিগত সংস্কার জরুরি। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা কর্মসংস্থানের সংখ্যাগুলো সম্ভাব্য হিসাব। বাস্তবে এসব কর্মসংস্থান সৃষ্টি নির্ভর করবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সংস্কার কার্যক্রমের বাস্তবায়নের ওপর।