Print

সারাদিন

আয়াস-রিমির জামিন শুনানিতে আইনজীবীদের মারামারি, এজলাস ছাড়লেন বিচারক

প্রকাশিত: ৮:০৯ অপরাহন, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

রাজধানীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সভাপতি আল নুর মোহাম্মদ আয়াস ও মারজিয়া খন্দকার রিমির জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালতে হট্টগোল ও আইনজীবীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতির একপর্যায়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াদ হাসান এজলাস ছেড়ে খাস কামরায় চলে যান। পরে শুনানি শেষে দুই আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। কয়েক মিনিট পর পরিস্থিতি শান্ত হলে বিচারক আবার এজলাসে ফিরে আসেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আসামিপক্ষের আইনজীবী আল মোহসিন তৌহিদ রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটরসহ অন্য আইনজীবীদের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন আইনজীবী তৌহিদকে কিল-ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ধস্তাধস্তির সময় তাঁর শার্ট ছিঁড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে বিচারক এজলাস ত্যাগ করেন।

পরে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন সুমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিকেল ৪টা ৪৪ মিনিটে বিচারক আবার এজলাসে ফিরে সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে আয়াস ও রিমির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

শুনানিতে আসামিদের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী মনির হোসেন সুমন। রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি অভিযোগ করেন, আসামিদের কর্মকাণ্ডের পেছনে উসকানিমূলক উদ্দেশ্য ছিল। এ সময় তিনি আসামিপক্ষের আইনজীবীদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে।

এর আগে গত রোববার আদালত আয়াসের তিন দিন এবং রিমির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে বুধবার তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আব্দুল গাফফার হিমেল তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

Nagad
Nagad

গত শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির দক্ষিণ পাশের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি বিকৃত ও নষ্ট করার চেষ্টার অভিযোগে এক নারীসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ। পরে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক জিয়াউল হক এ ঘটনায় মামলা করেন। মামলায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ আনা হয়েছে।