Print

সারাদিন

খালি পেটে শিঙাড়া খেলে যেসব সমস্যা হতে পারে

প্রকাশিত: ১১:২৪ পূর্বাহ্, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

চায়ের সঙ্গে গরম গরম শিঙাড়া—সকালের নাশতা কিংবা বিকেলের আড্ডায় অনেকেরই পছন্দের খাবার। রাস্তার পাশের দোকান থেকে অফিসের নাশতার টেবিল, সর্বত্রই জনপ্রিয় এই মুখরোচক খাবার। তবে শিঙাড়া খাওয়ার পর কারও কারও পেটে গ্যাস, বুকজ্বালা, ঢেকুর কিংবা পেট ভার হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বদহজমের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে তেল-চর্বিযুক্ত খাবার অস্বস্তি বাড়াতে পারে। শিঙাড়া সাধারণত ময়দার আবরণে আলু ও মসলা ভরে ডুবো তেলে ভেজে তৈরি করা হয়। ফলে এর আকার ও তৈরির পদ্ধতি অনুযায়ী এতে ক্যালরি ও চর্বির পরিমাণ বেশি হতে পারে।

খালি পেটে শিঙাড়া খেলে যেসব সমস্যা হতে পারে

১. বুকজ্বালা ও অ্যাসিড রিফ্লাক্স

তেল-চর্বিযুক্ত খাবার কিছু মানুষের অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা বাড়াতে পারে। এ অবস্থায় পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে এলে বুকজ্বালা, টক ঢেকুর কিংবা গলায় অস্বস্তি হতে পারে। যাঁদের আগে থেকেই এ সমস্যা রয়েছে, তাঁদের বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

২. পেট ভার ও বমিভাব

Nagad
Nagad

ডুবো তেলে ভাজা খাবার হজম হতে তুলনামূলক বেশি সময় নিতে পারে। একসঙ্গে বেশি শিঙাড়া খেলে পেট ভার লাগা, পেট ফাঁপা কিংবা বমিভাব দেখা দিতে পারে। তবে এসব সমস্যা সবার ক্ষেত্রে একইভাবে দেখা যায় না।

৩. অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ

শিঙাড়ায় কত ক্যালরি রয়েছে, তা নির্ভর করে এর আকার, পুর এবং ভাজার পদ্ধতির ওপর। নিয়মিত বেশি পরিমাণে শিঙাড়া খেলে শরীরের দৈনিক চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস চলতে থাকলে ওজন বেড়ে যেতে পারে।

৪. দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি

নিয়মিত অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের মান খারাপ করতে পারে। এর সঙ্গে অন্যান্য অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস যুক্ত হলে ওজন বৃদ্ধি, রক্তে কোলেস্টেরলের সমস্যা এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তবে শুধু সকালে শিঙাড়া খাওয়াই এসব রোগের সরাসরি কারণ নয়।

শিঙাড়া খাওয়ার পর অ্যাসিডিটি হলে কী করবেন

১. সোজা হয়ে বসুন, হালকা হাঁটুন

খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়বেন না। অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা সোজা হয়ে থাকুন। শারীরিকভাবে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করলে হালকা হাঁটাচলাও করতে পারেন। এতে কিছু মানুষের অ্যাসিড রিফ্লাক্সের অস্বস্তি কমতে পারে।

২. পরিমিত পানি পান করুন

স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করতে পারেন। তবে পানি পাকস্থলীর তেল দূর করে বা অ্যাসিডিটি সারিয়ে দেয়—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। অতিরিক্ত পানি একসঙ্গে পান না করে প্রয়োজন অনুযায়ী পান করাই ভালো।

৩. জোয়ান ও মৌরির ওপর নির্ভর করবেন না

জোয়ান বা মৌরি খেলে কারও কারও পেটের অস্বস্তি কম মনে হতে পারে। তবে এগুলো অ্যাসিডিটি দ্রুত সারায় কিংবা সঙ্গে সঙ্গে বুকজ্বালা দূর করে—এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত। সমস্যা হলে এগুলোকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

৪. দুধ, কলা বা দই খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন

কলা বা দই কারও কাছে সহনীয় হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে উপসর্গের পরিবর্তন নাও হতে পারে। বেশি চর্বিযুক্ত দুধ কিছু মানুষের বুকজ্বালা বাড়াতে পারে। তাই অ্যাসিডিটি কমানোর জন্য জোর করে কোনো খাবার খাওয়ার প্রয়োজন নেই। যে খাবারে অস্বস্তি বাড়ে, সেটি এড়িয়ে চলুন।

শিঙাড়া খাওয়ার সময় যেসব সতর্কতা মানবেন

খালি পেটে শিঙাড়া খেলেই সবার সমস্যা হবে, এমন নয়। তবে যাঁদের ভাজাপোড়া খেলে অস্বস্তি হয়, তাঁরা কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে পারেন।

– একসঙ্গে বেশি শিঙাড়া না খেয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
– নিয়মিত নাশতায় শিঙাড়ার বদলে ডিম, রুটি, ফল বা অন্য সুষম খাবার রাখুন।
– অতিরিক্ত ঝাল চাটনি কিংবা কোমল পানীয়তে অস্বস্তি বাড়লে সেগুলো এড়িয়ে চলুন।
– বারবার বুকজ্বালা বা বদহজম হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কখন জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন?*

বুকের তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম কিংবা ব্যথা হাত, পিঠ বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে শুধু অ্যাসিডিটি ভেবে অবহেলা করবেন না। দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন। সব মিলিয়ে, শিঙাড়া পুরোপুরি বাদ দেওয়ার চেয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে খাবার খাওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।