Print

সারাদিন

টুজি নেটওয়ার্ক বন্ধের পরিকল্পনা, ৬ কোটি ফোন ব্যবহারকারী পড়তে পারেন বিপাকে

প্রকাশিত: ৮:৩৪ পূর্বাহ্, অক্টোবর ১৮, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

বাংলাদেশে আগামী তিন বছরের মধ্যে টুজি নেটওয়ার্ক বন্ধের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে টুজি সেবা বন্ধ হলে প্রচলিত টুজি-নির্ভর বাটন ফোনে আর মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যাবে না। এতে দেশের প্রায় ছয় কোটি টুজি হ্যান্ডসেট ব্যবহারকারী প্রভাবিত হতে পারেন।

টুজি নেটওয়ার্ক বন্ধ হলে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় কমবে এবং টুজির জন্য ব্যবহৃত তরঙ্গ ফোরজি সেবায় কাজে লাগানো যাবে। তবে স্বল্পমূল্যের ফোনের বাজারে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশীয় হ্যান্ডসেট উৎপাদকরা। সূত্র: সময় টিভি।

কম দাম, সহজ ব্যবহার আর দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারির কারণে দেশের গ্রামাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছে এখনো জনপ্রিয় বাটন ফোন। এসব ফোনে মূলত কথা বলা ও খুদে বার্তা পাঠানোর সুবিধা ব্যবহার করেন গ্রাহকেরা। কিন্তু টুজি নেটওয়ার্ক বন্ধের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এসব ফোনের ব্যবহার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।

বিটিআরসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের পর নতুন কোনো টুজি ফোনের মডেল অনুমোদন দেওয়া হবে না। ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের পর দেশে টুজি ফোন উৎপাদন এবং একই বছরের জুনের পর বিক্রি বন্ধের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর গ্রাহক পর্যায়ে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরে টুজি সেবা বন্ধ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, ‘২০২৯ সালের ডিসেম্বরে টুজি সেবা বন্ধ করার জন্য যেসব পদক্ষেপ নিতে হবে, পরামর্শসহ তা সরকারের কাছে পাঠাব।’

এদিকে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য পাঁচ হাজার টাকায় স্মার্টফোন বাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে কম দামের স্মার্টফোনের দাম প্রায় সাড়ে ৯ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ফিচার ফোন পাওয়া যায় মাত্র ৯৫০ টাকায়। ফলে টুজি নেটওয়ার্ক বন্ধ হলে বিকল্প ফোন কিনতে গিয়ে নিম্নআয়ের গ্রাহকদের বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়তে হতে পারে।

Nagad
Nagad

অপারেটরদের লাভ, বাড়বে ফোরজির ব্যবহার

টুজি নেটওয়ার্ক বন্ধ হলে মোবাইল অপারেটরদের জন্য তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ করার সুযোগ তৈরি হবে। টুজিতে ব্যবহৃত তরঙ্গ ফোরজি নেটওয়ার্কে কাজে লাগানো গেলে ডেটা সেবার সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি গ্রাহকদের ফোরজিতে স্থানান্তরিত করতে পারলে অপারেটরদের ব্যবসায়িক সম্ভাবনাও বাড়বে।

বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, ‘টুজি থেকে ফোরজি হলে আমরা স্পেকট্রাম এফিশিয়েন্সি বাড়াতে পারব।’

রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি টুজি থেকে ফোরজি করতে পারব, আমাদের জন্য তত ভালো হবে। নেটওয়ার্কটা আমরা আমাদের ডেটা নেটওয়ার্কের জন্য সাজিয়েছি। ভয়েস নেটওয়ার্ক এখন অপশনাল।’

চাপে পড়তে পারে দেশীয় হ্যান্ডসেট শিল্প

টুজি ফোনের উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে দেশীয় হ্যান্ডসেট উৎপাদকদের মধ্যে। বর্তমানে কম দামের ফোনের বাজারে টুজি হ্যান্ডসেটের উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। ২০২৫ সালে দেশে উৎপাদিত মোট হ্যান্ডসেটের প্রায় ৬৫ শতাংশ ছিল টুজি ফোন। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত এ ধরনের ফোনের উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

টুজি ফোনের বাজার সংকুচিত হলে দেশীয় উৎপাদকদের ব্যবসায় প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে কম দামে ফোন ব্যবহার করা গ্রাহকদের জন্যও বিকল্প ডিভাইস কেনার চাপ তৈরি হতে পারে।

মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, ‘দরিদ্র জনগণের স্বার্থের কথা চিন্তা না করে টুজি থেকে ফোরজি নেটওয়ার্ক করার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া কতটা যৌক্তিক হবে, সেটাই আমাদের উদ্বেগের বিষয়।’ টুজি নেটওয়ার্ক বন্ধের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একদিকে আধুনিক মোবাইল নেটওয়ার্কের ব্যবহার বাড়বে, অন্যদিকে স্বল্পমূল্যের ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্প নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।