Print

সারাদিন

‘গার্লস স্পেস মিশন ২০৩৫’: মহাকাশ অভিযানের স্বপ্নে ৩০ কিশোরী

প্রকাশিত: ১২:৪৩ অপরাহন, অক্টোবর ১৯, ২০২৬

তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের কিশোরীদের মধ্যে মহাকাশবিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি এবং ভবিষ্যৎ নারী বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘গার্লস স্পেস মিশন ২০৩৫—বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ শিক্ষামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছে ৩০ জন কিশোরী।

১৮ অক্টোবর ঢাকার ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশে (আইইউবি) কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের উদ্যোগে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের (কাসা) সহযোগিতায় এর আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী কিশোরীরা মঙ্গল গ্রহে অভিযান পরিচালনার একটি অনুকরণমূলক অভিজ্ঞতা অর্জন করে। তাদের পাঁচটি দলে ভাগ করা হয়। দলগুলো রকেট ও উৎক্ষেপণব্যবস্থা, মঙ্গল অবতরণযান, মঙ্গল অনুসন্ধানী রোবট, মঙ্গল আবাসন এবং মঙ্গলবিষয়ক বিজ্ঞান ও জীবনধারণব্যবস্থা নিয়ে কাজ করে।

হাতে-কলমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, তথ্য বিশ্লেষণ, দলগত সমস্যা সমাধান ও অভিযান অনুকরণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা মহাকাশ অনুসন্ধানের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ধারণা পায়। একই সঙ্গে তাদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস, বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা এবং দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়।

স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের প্রেসিডেন্ট আরিফুল হাসান অপু বলেন, প্রতিটি শিশুর মধ্যেই বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী কিংবা উদ্ভাবক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিবেশ, হাতে-কলমে শেখার সুযোগ এবং স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা।

তিনি বলেন, ‘গার্লস স্পেস মিশন ২০৩৫’-এর মাধ্যমে ৩০ জন কিশোরীকে শুধু মহাকাশ সম্পর্কে শেখানো নয়, বরং তাদের আত্মবিশ্বাসী হওয়া, বৈজ্ঞানিকভাবে চিন্তা করা এবং বড় স্বপ্ন দেখার জন্য উৎসাহিত করাই ছিল মূল লক্ষ্য।

Nagad
Nagad

আরিফুল হাসান অপু আরও বলেন, কিশোরীদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করে মহাকাশবিজ্ঞান, রোবোটিকস, প্রকৌশল ও গবেষণায় তাদের দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করতে চায় স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্প। আজ যারা মঙ্গল অভিযানের অনুকরণে অংশ নিচ্ছে, ভবিষ্যতে তাদের মধ্য থেকেই কেউ মহাকাশবিজ্ঞানী, রোবোটিকস প্রকৌশলী কিংবা আন্তর্জাতিক গবেষক হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।

তিনি বলেন, আজকের এই ৩০ কিশোরী ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলাই উদ্যোগটির লক্ষ্য, যারা শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করবে না, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দেবে।

দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়নের পরিকল্পনা

কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় অংশগ্রহণকারী ৩০ কিশোরীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করছে স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্প। এর মধ্যে রয়েছে মহাকাশবিজ্ঞান, রোবোটিকস, রকেট প্রযুক্তি ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ, গবেষণাভিত্তিক প্রকল্প, মঙ্গল অনুসন্ধানী রোবট ও আবাসনের মডেল তৈরি এবং নিয়মিত মহাকাশ অভিযান অনুকরণ কার্যক্রম।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি পেশাজীবীদের সঙ্গে কিশোরীদের যুক্ত করে একটি পরামর্শক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা, গবেষণা উপস্থাপনা এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

উদ্যোগটির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো ২০৩৫ সালের মধ্যে মহাকাশবিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গবেষণায় আগ্রহী দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী নারী প্রজন্ম গড়ে তুলতে অবদান রাখা। আয়োজকদের মতে, ‘গার্লস স্পেস মিশন ২০৩৫’ কেবল এক দিনের কর্মসূচি নয়; বরং বাংলাদেশের কিশোরীদের মহাকাশ অনুসন্ধান ও বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ।