Print

সারাদিন

ফ্রান্সে কারফিউ জারির পর কমেছে সহিংসতা, ফের বিক্ষোভের আশঙ্কা

প্রকাশিত: ৮:৫০ অপরাহন, অক্টোবর ২০, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

ফ্রান্সের বড় শহরগুলোর সহিংসতাপ্রবণ এলাকায় রাতের কারফিউ জারির পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। তবে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাম্প্রতিক সহিংসতাকে কয়েক বছরের মধ্যে ফ্রান্সের অন্যতম ভয়াবহ অস্থিরতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফ্রান্সের বিক্ষোভের প্রভাব ইতালি ও আলবেনিয়াসহ অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও জীবনমানের অবনতি নিয়ে ক্ষোভ থেকে সেসব দেশেও মানুষ রাস্তায় নেমেছে এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সহিংসতার পর জনমনে আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করছে ফরাসি সরকার। বিক্ষোভের সময় দাঙ্গাকারী ও লুটপাটকারীরা প্যারিস, মার্সেই ও লিওঁর মতো শহরের কেন্দ্রস্থলে ঢুকে পড়লেও তাদের ঠেকাতে নিরাপত্তাব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল না। সরকার জানিয়েছে, নিরাপত্তাব্যবস্থার এই দুর্বলতা থেকে শিক্ষা নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কারফিউ জারি করায় গত রাতের পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সহায়তা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সপ্তাহের বাকি সময়েও কারফিউ বাড়ানো হতে পারে।

প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে রাতে প্লাস দে লা রিপাবলিক এলাকা থেকে পুলিশ লোকজনকে সরিয়ে দেয় এবং সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করে। এ সময় আকাশে হেলিকপ্টার টহল দেয়। উত্তর ফ্রান্সের লিলে শহরে শুধু অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর কারফিউ কার্যকর ছিল। সেখানে পুলিশ শহরের কেন্দ্রস্থলে টহল দেওয়ার পাশাপাশি পথচারীদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে।

মারসেইয়ের মেয়র বেনোয়া পায়ান জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তের দাঙ্গায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে মঙ্গলবার রাত থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কারফিউ জারি করা হবে।

Nagad
Nagad

ফ্রান্সে জীবনমানের অবনতি ও বিভিন্ন স্থাপনার বেহাল দশার প্রতিবাদে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ধর্মঘট ও বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৃহত্তর জনঅসন্তোষ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও সামাজিক কল্যাণের চাহিদা পূরণ না হওয়ার অভিযোগেও ক্ষোভ বাড়ছে।

বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ বিএফএম টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তে আটক ১৪৯ জন বিচার শুরুর অপেক্ষায় কারাগারে রয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় আরেকটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রায় আড়াই হাজার মানুষ তখনো হেফাজতে ছিলেন।

বাড়ছে সরকারি বন্ডের সুদ

সহিংসতাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে আর ছয় মাস বাকি। জনমত জরিপ অনুযায়ী, নির্বাচনী দৌড়ে কট্টর ডানপন্থী ও কট্টর বামপন্থী প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।

নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মঙ্গলবার ফরাসি সরকারি বন্ডের সুদ আরও বেড়েছে। ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদ গত ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীরা ফ্রান্সের ঋণপত্র কিনতে যে অতিরিক্ত মুনাফা দাবি করছেন, বন্ডের সুদ তারই একটি সূচক।

সংকট কাটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং বাজেট বিল পাসের দিকে মনোযোগ ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু সরকার ও বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাদের বৃহস্পতিবার আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স