প্রকাশিত: ১০:০৪ অপরাহন, অক্টোবর ২১, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
তিন দিন আগে ছেলেসন্তানের বাবা হয়েছেন শাহিন মিয়া (২৫)। নতুন অতিথির আগমনে আনন্দ ভাগাভাগি করতে বুধবার সকালে ঢাকার পোশাক কারখানার চাকরি থেকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন তিনি। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। জমি ও ইটের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে বিকালে চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের হামলায় প্রাণ হারান শাহিন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকালে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের হাসনাবাদ খলাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যায় কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শাহিন মিয়া ওই গ্রামের আওলাদ হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন তাঁর চাচা মোবারক হোসেন ও চাচাতো ভাই রাব্বি মিয়া।
পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাড়ির পাশে স্তূপ করে রাখা ইটের মালিকানা ও জমি নিয়ে শাহিনের বাবা আওলাদ হোসেনের সঙ্গে তাঁর ভাই মোবারক হোসেনের বিরোধ চলছিল। বুধবার বিকালে ওই জায়গা থেকে ইট নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে মোবারক হোসেন ও তাঁর ছেলে রাব্বি মিয়া দা নিয়ে আওলাদ হোসেনের ওপর হামলা করতে যান। এ সময় বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে শাহিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শাহিনের মা নূরমহল বলেন, ‘আমার ছেলে তিন দিন আগে ছেলেসন্তানের বাবা হয়েছে। এজন্য বাড়ি এসেছিল। ছেলেটারে কুপিয়ে মেরে ফেলেছে মোবারক ও তার ছেলে। আমি এর বিচার চাই।’
স্থানীয় যুবক গোলাপ মিয়া বলেন, শাহিন ঢাকায় চাকরি করতেন। সন্তানের বাবা হওয়ার খুশিতে বুধবার সকালে বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। তাঁর কোমরের নিচের অংশে কোপানো হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে গেছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।