প্রকাশিত: ১০:৩৬ পূর্বাহ্, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
দীর্ঘ ২০ বছরের উন্নয়নবৈষম্য ও বঞ্চনা কাটিয়ে বগুড়াকে দেশের অন্যতম প্রধান শিল্প, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করতে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনায় রয়েছে ১০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ, প্রায় এক হাজার কোটি টাকার প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ এবং প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার সিটি করপোরেশন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন উদ্যোগ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বগুড়ার হোটেল মম-ইনের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‘উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরাম।
যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণে ১০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের সুবিধা বাড়াতে বগুড়া বহুমাত্রিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।
শহরের যানজট নিরসন ও সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনা তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, করতোয়া নদীর তীর ঘেঁষে চার লেনের সড়ক নির্মাণ এবং শহরের প্রধান প্রধান মহাসড়ক চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যানজট নিরসন ও নগরায়ণের প্রাথমিক কাজের জন্য ইতোমধ্যে ৭০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।
বগুড়ার অবকাঠামো উন্নয়নে আরও কয়েকটি বড় বরাদ্দ ও পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘আরাফাত রহমান কোকো প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ’ গড়ে তোলা হবে। নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এক হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা। জেলার ১৩টি উপজেলার টেকসই উন্নয়নে তিন হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং পৌরসভাগুলোর অবকাঠামো শক্তিশালী করতে আরও দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।
বগুড়া ওয়াসা ও বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া দ্রুতই বিসিক শিল্প পার্কের কাজ শুরু হবে। উপজেলার ডাকবাংলো ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো উন্নয়নেও বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও উচ্চশিক্ষা খাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলার ১৩টি উপজেলায় ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে বহুমুখী উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে গবেষণার সুযোগ বাড়ে।
বগুড়ার অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, কৃষিতে উদ্বৃত্ত এ জেলায় বছরে প্রায় তিন হাজার ৫০০ কোটি টাকার খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে। কিন্তু গত ২০ বছর ধরে অঞ্চলটি কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। বগুড়াকে আধুনিক ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করতে সুনির্দিষ্ট মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
দেশজুড়ে সুষম উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে সমান গুরুত্ব দেন। রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য এক হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং গোপালগঞ্জের জন্য এক হাজার ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নয়ন কোনো নির্দিষ্ট জেলার জন্য নয়; দেশের সব মানুষের জীবনমান উন্নত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
এ সময় রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে ভালো উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানানো এবং বগুড়ার সার্বিক অবকাঠামোগত অগ্রযাত্রায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার, পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এবং পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ প্রমুখ।