প্রকাশিত: ৯:২১ অপরাহন, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরীর করা প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির মামলার অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পুলিশের তদন্ত সংস্থা পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষের নারাজির আবেদন মঞ্জুর করে এ নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পিবিআইয়ের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীর নারাজির আবেদনের শুনানি এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের ১২৭ নম্বর সড়কে সানায়া চৌধুরীর একটি ফ্যাশন হাউস ও স্টুডিও রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তানজিন তিশা তাঁর কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা দামের একটি শাড়ি নেন। অনুষ্ঠান শেষে পরদিন শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন সানায়া।
অভিযোগ অনুযায়ী, শাড়িটি ফেরত চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর তানজিন তিশাকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান সানায়া। এরপর শাড়ি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ২০২৫ সালের ১৩ ও ১৮ মার্চ দুটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তানজিন তিশার সঙ্গে দেখা হলে আবারও শাড়িটি ফেরত চান সানায়া। তবে তখনও শাড়িটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে বলা হয়।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর ফেসবুক মেসেঞ্জারে ফোন করে তানজিন তিশা মামলা করা এবং সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেন। এ ঘটনায় ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সানায়া।
তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে গত ২৫ মে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই। সংস্থাটির উপপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম ওই প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে তানজিন তিশাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। তবে পিবিআইয়ের প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ নারাজির আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেন।