প্রকাশিত: ৪:০০ অপরাহন, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
রাজধানীর বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন টাটকা সবজি। তবে নতুন সবজির স্বাদ নেওয়ার আগেই চড়া দামে অস্বস্তিতে পড়ছেন ক্রেতারা। নতুন আলু কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা এবং দেশি টমেটো ১৮০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে। সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও চড়া দাম বিরাজ করছে। বিশেষ করে বড় আকারের ও সামুদ্রিক মাছ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে সবজি, মাছ ও মুরগি কিনতে ক্রেতাদের তুলনামূলক বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বড় আকারের মাছ, ইলিশ ও কিছু সবজির দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।
ব্যবসায়ী শাহ আলম বলেন, বাজারে নতুন কোনো সবজি বা পণ্য উঠলে শুরুতে দাম কিছুটা বেশি থাকে। ক্রেতা আবু বক্কর বলেন, টেলিভিশনে দেখা যায়, পাঁচ টাকা দিয়েও কেউ লাউ কিনছে না। অথচ রাজধানীর বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকার নিচে কোনো লাউ পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ সবজির দামই ১০০ টাকার আশপাশে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ঝিঙা ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৬০ টাকা, লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং পটোল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাঁকরোল ১০০ টাকা, কচুমুখী ৮০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, শিম ১০০ টাকা, সাধারণ টমেটো ১২০ টাকা এবং দেশি টমেটো ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা, জলপাই ৮০ টাকা এবং নতুন আলু ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারে কিছু পণ্যের দাম ১০০ টাকা ছাড়ালেও কয়েকটি সবজি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে পেঁপে, মিষ্টিকুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও পটোল ৩০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে কিনতে পারছেন ক্রেতারা।
মুরগির বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। অন্যদিকে সোনালি মুরগির দাম ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা। ফলে ব্রয়লারের তুলনায় সোনালি মুরগি কিনতে ক্রেতাদের বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।
মাছের বাজারেও দামের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। তুলনামূলক কম দামে প্রতি কেজি পাঙাশ ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া রুই মাছ ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, চাষের শিং ৪৫০ টাকা এবং বায়লা ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে বড় আকারের কাতল মাছের দাম কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, আইড় ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং বাইন মাছ ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। দেশি শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকা কেজি দরে। বড় আকারের চিংড়ির দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার ৪০০ টাকা। আর সাগরের পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকায়।
ইলিশের দামও বেশ চড়া। ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২ হাজার ৬০০ টাকা।
মাছ ব্যবসায়ী মোজাম্মেল বলেন, সাগরের মাছের দাম সব সময় বেশি থাকে। এসব মাছ হাজার টাকার নিচে বিক্রি হয় না। দেশি মাছের দামও বেশি। চাষের মাছের দামও ২০০ টাকার ওপরে। আজ আইড় মাছ ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন তিনি। ক্রেতা আজাদ রহমান বলেন, মোহাম্মদপুরের অন্যান্য বাজারের তুলনায় টাউন হল মার্কেটে মাছের দাম কিছুটা বেশি। তবে দাম বেশি হলেও এখানে তরতাজা মাছ পাওয়া যায়।
এদিকে বাজারে প্রতি ডজন বাদামি খোসার ব্রয়লার মুরগির ডিম ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।