প্রকাশিত: ১:১১ পূর্বাহ্, নভম্বর ১, ২০২৬
তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিবেদক:
টেলিযোগাযোগ সেবার পাশাপাশি বিনোদন ও দৈনন্দিন জীবনের নানা ডিজিটাল সুবিধা একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসছে বাংলালিংক। এ লক্ষ্যে নিজেদের সেলফ সার্ভিস অ্যাপ ‘মাইবিএল’-এ পরিবর্তন এনে ‘মুক্ত’ নামে নতুন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করছে প্রতিষ্ঠানটি। অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারবেন যেকোনো মোবাইল অপারেটরের গ্রাহক।
বাংলাদেশের প্রথম টেলকো-অ্যাগনস্টিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘মুক্ত’ তৈরি করা হয়েছে। এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, দেশের যেকোনো মোবাইল নম্বর কিংবা বিশ্বের যেকোনো দেশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে লগইন করা যাবে। ফলে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে একটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটির বিভিন্ন সেবা নিতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।
‘মুক্ত’ অ্যাপে থাকছে গান ও গল্প শোনা, ইসলামিক পরামর্শ, সর্বশেষ খবর এবং খেলা দেখার মতো বিনোদনমূলক আয়োজন। পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ সেবা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর বিভিন্ন সুবিধাও পাওয়া যাবে। প্ল্যাটফর্মটি সবার জন্য উন্মুক্ত ও সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তৈরি করা হয়েছে।
অ্যাপটিতে যুক্ত করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যক্তিগত পছন্দ নির্ধারণের সুবিধা। এ ফিচার ব্যবহারকারীর আগ্রহ ও পছন্দ বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার সুপারিশ করবে। এ ছাড়া নিজের মোবাইল নম্বরের পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও প্রিয়জনদের নম্বরের জন্যও অ্যাপটি থেকে বিভিন্ন সেবা পরিচালনা করা যাবে।
বাংলালিংকের চিফ মার্কেটিং অফিসার কাজী মাহবুব হাসান বলেন, গ্রাহকদের শুধু টেলিযোগাযোগ সেবার চাহিদা নয়, এর বাইরেও দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন প্রয়োজন বোঝার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি বলেন, ‘গ্রাহককে অগ্রাধিকার দেওয়ার অর্থ হলো, সংযোগ সেবার বাইরেও তাঁদের নানা ধরনের প্রয়োজন রয়েছে, তা বোঝা। মানুষ তাদের ডিজিটাল জীবনকে কোনো নির্দিষ্ট মোবাইল অপারেটরের সেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে না। তারা এমন প্রযুক্তি চায়, যা দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশে গিয়ে জীবনকে আরও সহজ, সুবিধাজনক ও ব্যক্তিগত পছন্দের উপযোগী করে তুলবে। মুক্তর মাধ্যমে আমরা এসব সেবা এক জায়গায় নিয়ে আসতে চাই, যাতে সবাই তা ব্যবহার করতে পারেন।’
‘মুক্ত’ চালুর মধ্য দিয়ে বাংলালিংকের ডিজিটাল সেবা দেওয়ার কৌশলেও পরিবর্তন আসছে। আগে প্রতিষ্ঠানটি মূলত নিজেদের গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল সেবা তৈরি করলেও এখন সব মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকদের জন্য আরও বিস্তৃত পরিসরে এসব সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে।
গ্রাহককেন্দ্রিক ও ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতায় ‘মুক্ত’ অ্যাপের মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনে ডিজিটাল সেবা আরও সহজলভ্য ও ব্যবহারকারীর প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলাই বাংলালিংকের লক্ষ্য।