প্রকাশিত: ১১:২৫ অপরাহন, নভম্বর ১, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত থাকলে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন মালিকরা। শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে গেলে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন পোশাকশিল্পের মালিকেরা।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর কার্যালয়ে জরুরি সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। চলমান শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটির সাধারণ সদস্যদের নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
মাহমুদ হাসান খান জানান, সভায় কয়েকজন উদ্যোক্তা সোমবার থেকেই কারখানা বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে অধিকাংশ মালিক উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এবং কারখানায় বিশৃঙ্খলা চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হতে পারে।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, “মজুরি বোর্ড গঠনের পর আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কারখানায় কাজে ফিরে যাবেন। এখন যদি আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়, তাহলে আমাদের ধরে নিতে হবে, তাঁদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে।”
এদিকে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে রোববারও রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক বিক্ষোভ হয়েছে। মিরপুর, সাভারের আশুলিয়া এবং গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন। কোথাও কোথাও সড়ক অবরোধের পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ বক্স ও পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতির কারণে মিরপুরে মেট্রোরেলের তিনটি স্টেশনে সাময়িকভাবে চলাচল বন্ধ রাখতে হয়।
বিজিএমইএর হিসাব অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে রোববার পাঁচটি শিল্পাঞ্চলের ৫২৯টি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এসব কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
এর মধ্যে মিরপুরের ৬৮টি কারখানা রয়েছে। এ ছাড়া গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ২৭৬টি এবং সাভারের আশুলিয়া ও জিরানী এলাকার ১৮৫টি কারখানার শ্রমিকেরা কর্মস্থল ছেড়ে যান।