প্রকাশিত: ৫:৫০ অপরাহন, নভম্বর ২, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা অবশ্যই ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে পরিচালিত হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, জাতীয় মর্যাদা, নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণ সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুবিধার ভিত্তিতে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।’
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) বঙ্গভবনে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২৬-এ অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালে রাষ্ট্রপতি এ গুরুত্বারোপ করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে মানসম্মত নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় স্বার্থ অর্জনে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপতি এ সময় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তাদের সাহস, আত্মত্যাগ ও অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের অসামান্য অবদান ও স্বাধীনতার ঘোষণার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপ্রধান তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় রাষ্ট্রপতি ১৯৭৭ সালে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পেশাদার সামরিক শিক্ষা বিস্তারে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও গত ১৭ বছরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারীদের স্মরণ করেন এবং জনগণের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার দেওয়ার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, প্রচলিত নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, সাইবার হুমকি, আন্তঃদেশীয় অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, মহামারি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা শুধু সামরিক প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানও জড়িত।
পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গোপসাগর ও বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কারণে সতর্কতা ও দূরদর্শিতার গুরুত্ব বিশেষভাবে বেড়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি যুদ্ধ ও নিরাপত্তার ধরন পরিবর্তন করে দিচ্ছে। একই সঙ্গে ভুল তথ্য, অপতথ্য এবং সাইবার হুমকি জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
উদীয়মান এই বাস্তবতা মোকাবিলায় কৌশলগত দূরদর্শিতা, সঠিক বিচার-বিশ্লেষণ, বুদ্ধিবৃত্তিক উদারতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দেশের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতাসম্পন্ন নেতৃত্ব প্রয়োজন বলে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন।
ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে মতবিনিময় ও সমসাময়িক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অভিন্ন উপলব্ধি গড়ে তোলার একটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
রাষ্ট্রপতি ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২৬-এর অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে স্থান দিতে হবে। একই সঙ্গে পেশাদারিত্ব, সততা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি বজায় রেখে কাজ করতে হবে।
কোর্সে অন্য দেশের অংশগ্রহণকারীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশে তাদের এই অভিজ্ঞতা তাদের নিজে নিজ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে সহায়ক হবে।
রাষ্ট্রপতি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতিসমূহের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্ততার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা, মতবিরোধের পরিবর্তে সংলাপ এবং সংঘর্ষের পরিবর্তে শান্তির আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি সক্ষম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার জন্য ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান।
এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ফ্যাকাল্টির সদস্য, এনডিসি কোর্স সম্পন্নকারী সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, এএফডব্লিউসি কোর্স সম্পন্নকারী সেনাবাহিনীর অফিসার, এনডিসি কোর্সে অংশগ্রহণকারী বিদেশি কোর্স সদস্য, আর্মি স্টাফ অফিসার ও জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও) এবং বঙ্গভবনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ২০২৬-এ বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী থেকে ৫৪ জন, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস থেকে ১৮ জন এবং বন্ধুপ্রতিম ১৭টি দেশ থেকে ৩১ জনসহ মোট ১০৩ জন সদস্য অংশ নেন।