Print

সারাদিন

শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

প্রকাশিত: ২:০৪ অপরাহন, নভম্বর ৪, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীর মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আন্দোলনের নামে সহিংসতা, ভাঙচুর ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্টের চেষ্টায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে এ তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর মহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। মিরপুর-১, পল্লবীর বিভিন্ন এলাকা, রূপনগর, মিরপুর-১২ ও কাফরুল সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। সব মিলিয়ে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

মহিদুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা, সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্টের চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব ঘটনায় জড়িত অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যাবে, সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

মিরপুরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক, কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা

মিরপুরের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ডিএমপির এ কর্মকর্তা বলেন, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অনেক পোশাক কারখানার শ্রমিক কাজে ফিরেছেন এবং কারখানাগুলোতে উৎপাদন চলছে। শ্রমিকরা কাজে ফিরে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Nagad
Nagad

পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছে বলে জানান মহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সব ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। সমন্বিতভাবে কাজ করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।

সহিংসতাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি

আন্দোলনের নামে সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের সতর্ক করে মহিদুল ইসলাম বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা পুলিশের দায়িত্ব। অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড, কারখানায় আগুন দেওয়া ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে। প্রকৃত শ্রমিকরা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে যারা অপরাধ করাচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং পোশাকশিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করা।

অপরাধীরা যত শক্তিশালীই হোক বা যত ষড়যন্ত্রই করুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে না দিতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।