Print

সারাদিন

সিটি গ্রুপের ব্যবসা চালাতে ৮ ব্যাংকের ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ

প্রকাশিত: ৯:২৪ পূর্বাহ্, নভম্বর ৫, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

সমস্যাগ্রস্ত সিটি গ্রুপের ব্যবসা সচল রাখতে তিন হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণের বিশেষ সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বেসরকারি সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে সিন্ডিকেশন পদ্ধতিতে আটটি ব্যাংক এই অর্থায়ন করবে। এ জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইনের নিষেধাজ্ঞা ২০২৭ সাল পর্যন্ত শিথিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বুধবার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সিটি গ্রুপের কাছে বিভিন্ন ব্যাংকের প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ পরিশোধ করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, ঋণখেলাপি কোনো প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে ঋণ বা ঋণপত্র সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। আইনের ২৭কক(৩) ধারায় এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে একই আইনের ১২১ ধারার ক্ষমতাবলে সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে সাময়িক সময়ের জন্য এ বিধান শিথিল করতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই ক্ষমতাবলেই সিটি গ্রুপকে তিন হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

যে ৮ ব্যাংক অর্থায়ন করবে

প্রাথমিকভাবে সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে আটটি ব্যাংক এ অর্থায়নের বিষয়ে আলোচনা করছে। সিটি ব্যাংক ছাড়াও সিন্ডিকেটে রয়েছে পূবালী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সিটি গ্রুপভুক্ত ঋণখেলাপি পাঁচটি প্রতিষ্ঠান—সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি এডিবল অয়েল, সিটি ডাল মিলস ও শম্পা ফ্লাওয়ার মিলসের অনুকূলে তিন হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন সুবিধা দেওয়া যাবে।

এ জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭কক(৩) ধারায় বর্ণিত বিধান ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর হবে না। তবে এই ছাড় শুধু সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে গঠিত সিন্ডিকেটেড অর্থায়নের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

Nagad
Nagad

ঋণ ব্যবহারে থাকছে কঠোর শর্ত

তিন হাজার কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে দায়হীন সম্পদ বন্ধক রাখার শর্ত রয়েছে।

প্রস্তাবিত ঋণ সুবিধার বিপরীতে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না। ভবিষ্যতে সিটি ব্যাংক কিংবা সিন্ডিকেটভুক্ত অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তাও চাইতে পারবে না।

ঋণের অর্থ দিয়ে কেনা পণ্য বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা নির্দিষ্ট একটি ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে। ওই হিসাব থেকে সিন্ডিকেটেড ঋণের পাওনা আনুপাতিক হারে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়মিত পরিশোধ করতে হবে।

প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ

দেশের অন্যতম শীর্ষ ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক সিটি গ্রুপ বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে সংকটে পড়েছে। ব্যবসায় বৈচিত্র্য আনতে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছিল গ্রুপটি। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে কয়েকটি কারখানা চালু করতে না পারায় বিনিয়োগের প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায়নি।

ভোগ্যপণ্যের পাশাপাশি ইস্পাত, শিপিং, চা-সহ বিভিন্ন খাতে সিটি গ্রুপের বিনিয়োগ রয়েছে। তীর, বেঙ্গল, ন্যাচারাল, জীবন, কুইক বাইট ও জেলফি ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য বাজারজাত করে প্রতিষ্ঠানটি।

কয়েক মাস আগে গ্রুপটির ঋণ পরিশোধে সংকটের বিষয়টি সামনে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংকগুলোও উদ্যোগ নেয়। শুরুতে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি সিটি গ্রুপের ঋণ পুনর্গঠনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সময় চেয়ে আবেদন করে। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাতে সায় দেয়।

আগেও বিশেষ সুবিধা পেয়েছে সিটি গ্রুপ

গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিটি গ্রুপের ঋণখেলাপি না করতে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ সুবিধা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে গত ৩১ মার্চ বিশেষ নীতি সহায়তার আওতায় সিটি গ্রুপের ঋণখেলাপি না করা, সুদের হার কমানো এবং ১ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন সুবিধা চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি দিয়েছিল গ্রুপটি।

ব্যাংকের দায় আংশিক পরিশোধ করে সংকট কাটাতে সিটি গ্রুপ তাদের হোসেন্দি অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ কয়েকটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি গ্রুপটির মালিকানাধীন ১৮ হাজার ৮৭৫ একর আয়তনের আটটি চা-বাগানের আংশিক বিক্রিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তবে এসব সম্পদ বিক্রিতে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা না পাওয়ায় সংকট পুরোপুরি কাটানো সম্ভব হয়নি। এ পরিস্থিতিতে সিটি গ্রুপের ব্যবসা সচল রাখতে এবার তিন হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে আটটি ব্যাংক। সূত্র: সমকাল