প্রকাশিত: ১:৫৯ অপরাহন, নভম্বর ৫, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় জন্মনিবন্ধনে জন্মসালের ভুল সংশোধন করতে গিয়ে ১১ মাস ধরে ঘুরছেন আব্দুর রহমান নামে এক বাবা। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় পর্যন্ত গিয়েও কোনো সমাধান পাননি তিনি। জন্মনিবন্ধনের ভুল সংশোধন না হওয়ায় মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাতে পারছেন না। এতে মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
আব্দুর রহমান নাচোল উপজেলার নাচোল ইউনিয়নের খেসবা গ্রামের বাসিন্দা। তার মেয়ের নাম রোকাইয়া। দীর্ঘদিন বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও সমাধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। খবর এনটিভির
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোকাইয়ার জন্মনিবন্ধনে জন্মসাল ভুল করে ২০১৭ সালের পরিবর্তে ২০১৪ লেখা হয়েছে। তার ইপিআই টিকাদান কার্ড অনুযায়ী, জন্মতারিখ ১৪ জুলাই ২০১৭। কিন্তু জন্মনিবন্ধনে উল্লেখ রয়েছে ১৪ জুলাই ২০১৪।
এই ভুল সংশোধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করেন আব্দুর রহমান। এরপর দীর্ঘ ১১ মাস ধরে ইউনিয়ন পরিষদ, চেয়ারম্যান ও ইউএনও কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি তিনি।
আব্দুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, মেয়ের জন্মনিবন্ধন করার সময় ভুল করে জন্মসাল ২০১৭-এর পরিবর্তে ২০১৪ লেখা হয়েছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে সংশোধনের জন্য আবেদন করি। কিন্তু দীর্ঘদিন ঘুরেও কোনো কাজ হয়নি। উল্টো ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে জানানো হয়েছে, এই জন্মনিবন্ধনের ভুল আর সংশোধন করা যাবে না। যা আছে, তা দিয়েই কাজ চালিয়ে নিতে হবে। জন্মনিবন্ধনে বয়স তিন বছর বেশি হওয়ায় মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে তার মেয়ের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, জন্মনিবন্ধনের ভুল সংশোধনের জন্য বৈধ কাগজপত্রসহ আবেদন করা হলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তা ইউএনও কার্যালয়ে পাঠানো হয়। ইউএনও অনুমতি দিলে সাত দিনের মধ্যে জন্মনিবন্ধনের ভুল সংশোধন করা সম্ভব। তবে এ ধরনের কোনো আবেদন তার কাছে এসেছে কি না, তা মনে নেই।
নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াংকা দাস বলেন, আমি যোগদানের পর এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে কেউ আমার কাছে এসেছেন বলে মনে পড়ছে না। ভুক্তভোগী আমার কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।