Print

সারাদিন

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন রোনালদো

প্রকাশিত: ৭:৩০ অপরাহন, নভম্বর ৫, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

অনেকেই ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে পর্তুগজি তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিদায় দেখে ফেলেছিলেন। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে এরপরও জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যান সিআরসেভেন। কিন্তু সেই যাত্রা খুব একটা লম্বা হলো না। পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ায় সৃষ্ট বিতর্ক এরপর পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের থেকে পাওয়া নিষেধাজ্ঞা–সবশেষে এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে দিলেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন রোনালদো।

৪১ বছর বয়সি এই পর্তুগিজ মহাতারকা দেশের জার্সিতে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে অবসরের ঘোষণা দিলেন। জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ২৩২টি ম্যাচ খেলে ১৪৬টি গোল করেছেন তিনি। যেটি পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। এছাড়া তার নেতৃত্বেই ২০১৬ সালে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল পর্তুগাল।

তবে জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোর একটি অপ্রাপ্তি হয়ত আজীবন তাড়া করে বেড়াবে রোনালদোকে। সেটি হলো একটি বিশ্বকাপ জিততে না পারার কষ্ট। জাতীয় দলের হয়ে এখনো বিশ্বকাপের সেই সোনালী ট্রফিতে চুমু আঁকা হয়নি তার।

শিরোপা না জিততে পারলেও অবশ্য বিশ্বকাপের কীর্তিতে নাম আছে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকার। যৌথভাবে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ছয়টি আসরে খেলার কীর্তি গড়েছেন সিআরসেভেন। এছাড়া ছয় বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য রেকর্ডও তার।

এত এত অর্জনের ভিড়েও যেন বিশাল বড় এক শূন্যতা আর অতৃপ্তি নিয়েই দেশের হয়ে আর না খেলার সিদ্ধান্ত নিলেন রোনালদো।

Nagad
Nagad

সাম্প্রতিক সময়ে দলে খেলার সুযোগ না পাওয়া নিয়ে কোচের সঙ্গে রোনালদোর দূরত্ব চরমে পৌঁছায়। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ফিফা উইন্ডোতে নরওয়ের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ না পেয়ে চরম ক্ষুব্ধ হন তিনি। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই কোচের ওপর রাগ করে সোজা ড্রেসিংরুমে চলে যান রোনালদো।

এমনকি মাঠে সেদিন তাকে সামনাসামনি দেখতে আসা হাজার হাজার সমর্থকের অভিবাদনের জবাব দিতে সতীর্থদের সঙ্গে মাঠের চারপাশেও যাননি তিনি। পরের ম্যাচের একাদশেও না থাকার কথা জানতে পেরে পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়েও চলে যান রোনারদো।

পরে ফিফা উইন্ডো শেষে লম্বা একটি বিবৃতিতে সেসময় ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দেন রোনালদো। বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, কোচ দুইবার তার সঙ্গে কথা রাখেননি।

রোনালদোর দাবি ছিল, কোচ তাকে ম্যাচ চলাকালীন কথা দিয়েছিলেন যে, বদলি খেলোয়াড় হিসেবে তাকে মাঠে নামানো হবে। কোচের এমন আশ্বাসের পর তিনি ওয়ার্ম-আপ করাও শুরু করেছিলেন। কিন্তু ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এসে হোর্হে জেসুস নিজের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন এবং তাকে মাঠে নামাননি।

ক্যাম্প ছেড়ে দলের নিয়ম ভাঙার অপরাধে পরবর্তীতে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে কিছুদিনের নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক জরিমানার মুখোমুখি হতে হয় রোনালদোকে।