প্রকাশিত: ১০:১৩ অপরাহন, নভম্বর ৭, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
সঞ্চয়ের টাকা কোথায় বিনিয়োগ করলে ভালো মুনাফা পাওয়া যাবে-এ নিয়ে অনেকেরই চিন্তা থাকে। ব্যাংকের স্থায়ী আমানত বা এফডিআর এবং সঞ্চয়পত্রের পাশাপাশি বিনিয়োগের আরেকটি মাধ্যম হলো বন্ড। নির্দিষ্ট মেয়াদে অর্থ বিনিয়োগ করে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকায় বন্ডও বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
তবে বন্ডে বিনিয়োগের আগে কোথা থেকে বন্ড কেনা যাবে, মুনাফার হার কত, কর কত দিতে হবে, কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে এবং মেয়াদপূর্তির আগে টাকা তোলার সুযোগ আছে কি না—এসব বিষয় সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি।
বন্ড কী
বন্ড মূলত একটি ঋণপত্র। সরকার, ব্যাংক কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অর্থ সংগ্রহের জন্য বন্ড ইস্যু করে। বিনিয়োগকারীরা বন্ড কিনে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী মুনাফা পান। শেয়ারের মতো বন্ড কিনলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানা পাওয়া যায় না। বাংলাদেশে সরকারি ট্রেজারি বন্ড ও করপোরেট বন্ড প্রচলিত রয়েছে। করপোরেট বন্ডের মধ্যে প্রচলিত বন্ডের পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক সুকুকও রয়েছে। মুনাফা দেওয়ার ধরন অনুযায়ী জিরো-কুপন ও পারপিচুয়াল বন্ডের মতো বিভিন্ন ধরনের বন্ডও রয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংক বন্ড ইস্যু করেছে। জিরো-কুপন বন্ডে নির্দিষ্ট সময় পরপর মুনাফা দেওয়া হয় না। সাধারণত অভিহিত মূল্যের চেয়ে কম দামে এই বন্ড কিনে মেয়াদ শেষে পুরো মূল্য পাওয়ার মাধ্যমে বিনিয়োগকারী মুনাফা পান।
বন্ডে বিনিয়োগের সুবিধা
বন্ডের অন্যতম সুবিধা হলো-অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের মেয়াদ ও মুনাফার শর্ত আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। ফলে সম্ভাব্য আয় সম্পর্কে আগেই ধারণা করা যায়। তবে সব বন্ডের মুনাফা ও ঝুঁকি এক নয়। সরকারি বন্ড, ব্যাংকের বন্ড এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বন্ডের মধ্যে ঝুঁকি ও শর্তের পার্থক্য রয়েছে।
এফডিআর বা সঞ্চয়পত্রের সঙ্গে তুলনার সময় শুধু ঘোষিত মুনাফার হার দেখলেই হবে না। কর ও অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রকৃত আয় কত থাকবে, সেটিও হিসাব করতে হবে। একই সঙ্গে বন্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতাও যাচাই করা জরুরি।
কর-সুবিধা বাড়াতে পারে প্রকৃত আয়
বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে করের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ব্র্যাক ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তাদের গ্রিন বন্ডের মুনাফার ওপর অগ্রিম আয়কর প্রযোজ্য হবে না। এ ছাড়া শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কর রেয়াতের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে বিনিয়োগের আগে কর-সুবিধার শর্ত এবং প্রযোজ্য বিধিবিধান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া উচিত।
ঝুঁকি বুঝে বিনিয়োগ জরুরি
বন্ডে নির্ধারিত মুনাফার প্রতিশ্রুতি থাকলেও এটি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার অবনতি হলে মুনাফা ও আসল অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে জামানতবিহীন করপোরেট বন্ডের ক্ষেত্রে ইস্যুকারীর ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া বাজারে সুদের হার বেড়ে গেলে আগে ইস্যু করা বন্ডের বাজারমূল্য কমতে পারে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বন্ড বিক্রি করতে হলে প্রত্যাশিত মুনাফার চেয়ে কম অর্থ পাওয়া কিংবা লোকসানের আশঙ্কাও থাকে।
কোথায় পাওয়া যাবে বন্ড
সরকারি ট্রেজারি বন্ড কেনা যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োজিত ডিলার ব্যাংকের মাধ্যমে। এজন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে হিসাব খুলে বিনিয়োগের নিয়ম জানতে হয়। অন্যদিকে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বন্ড কেনাবেচার জন্য বিও হিসাব প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে বন্ডে বিনিয়োগের আগে কয়েকটি বিষয় ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে-মুনাফার হার ও তা কীভাবে দেওয়া হবে; বন্ডের মেয়াদ; কর ও অন্যান্য খরচ; ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা; বন্ডটি জামানতযুক্ত নাকি জামানতবিহীন; মেয়াদপূর্তির আগে বিক্রি বা অর্থ উত্তোলনের সুযোগ; বাজারে বন্ডটির লেনদেনের সুযোগ ও তারল্য।
শুধু বেশি মুনাফার আশায় বন্ডে বিনিয়োগ না করে নিজের আর্থিক প্রয়োজন, বিনিয়োগের সময়কাল এবং ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।