প্রকাশিত: ১:২৭ অপরাহন, নভম্বর ৮, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
বিচার বিভাগে আর্থিক দুর্নীতি যতটা না ক্ষতি করেছে, তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি করেছে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি-এমন মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত এবং ইউএনডিপির সহযোগিতায় বাংলাদেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের অংশগ্রহণে ‘বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার’ বিষয়ক তিন দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারকের নামের আগে ‘সৎ জজ’ বলা কিছুটা অতিরঞ্জিত। একজন বিচারক মানেই সৎ—এটাই প্রত্যাশা। একজন মানুষ যখন বিচারক হন, তখন ধরে নেওয়া হয়, তার কাজই হলো সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে সততা রক্ষা করা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগে যে শুদ্ধাচারের সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা অনেকে আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন। কিন্তু তিনি বিষয়টি বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন।
‘হাতে গোনা কয়েকজন বিচারক হয়তো আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে, তাদের বিষয়ে সরকার ও প্রধান বিচারপতি জিরো টলারেন্স দেখানোর চেষ্টা করছেন।’
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগে আর্থিক দুর্নীতি যতটা না ক্ষতি করেছে, তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি করেছে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি। অধস্তন বিচার বিভাগের প্রতিটি বিচারক মেধার স্বাক্ষর রেখে কাজ করছেন। এই সময়ে সবচেয়ে মেধাবীদেরই বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তারা সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা-৯টা পর্যন্ত নিরন্তর কাজ করছেন।
টিআইবির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে যারা পক্ষপাতদুষ্ট, যারা দুর্নীতিগ্রস্ত এবং যারা আমাদের সুপ্রিম কোর্টকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, তাদের শনাক্ত করুন। তাদের বিরুদ্ধে আপনারা কথা বলুন।’
তিনি আরও বলেন, সমাজে বিভাজন তৈরি হয়েছে, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবেও বিভাজন তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ে অনেক মানুষ নিহত ও পঙ্গুত্ববরণ করলেও বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ এ বিষয়ে নীরব ছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের শুদ্ধাচার নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বিচার বিভাগের বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির বিষয়েও কথা বলা প্রয়োজন।
বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এসব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনা হবে এবং ইতিমধ্যে সেই লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে।
তিনি বলেন, এমন একটি বিচার বিভাগ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নিরপেক্ষভাবে ন্যায়বিচার হবে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির ঊর্ধ্বে উঠে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। জনগণের কাছে সেই ন্যায়বিচার দৃশ্যমান হলেই স্বপ্নের বিচার বিভাগে পৌঁছানো সম্ভব।
সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে টিআইবির পরামর্শ আহ্বান করে আইনমন্ত্রী বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে মৌলিক ও জনকল্যাণমুখী পরামর্শ দিলে তা পর্যালোচনা সভায় আলোচনা করা হবে।
অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি বাংলাদেশের রুল অব ল, জাস্টিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের সিনিয়র অ্যাডভাইজার রোমানা শোয়েগার এবং টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।