গুম তদন্ত কমিশনের দ্বিতীয় অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ৩:১৭ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২৫

গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের দ্বিতীয় অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার বেলা ১১টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশন প্রধান বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে কমিশনের সদস্যরা এই প্রতিবেদন জমা দেন। সদস্যদের মধ্যে নূর খান, সাজ্জাদ হোসেন ও নাবিলা ইদ্রিস উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া।

প্রতিবেদন গ্রহণ করে ড. ইউনূস বলেন, ‘এই প্রতিবেদন শুধু বাংলাদেশ নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও আগ্রহের বিষয়। এটি ওয়েবসাইট ও বই আকারে প্রকাশ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গুমের ঘটনাগুলো এতটাই ভয়াবহ যে, এগুলো দিয়ে একটি হরর মিউজিয়াম হওয়া উচিত। তিন ফুট বাই তিন ফুটের খুপড়িতে মাসের পর মাস মানুষকে আটকে রাখার নির্মমতা আমাদের সমাজেরই ‘ভদ্রলোকেরা’ ঘটিয়েছে। মানুষ যেন এই ইতিহাস জানতে পারে।’

প্রধান উপদেষ্টা কমিশনকে করণীয়গুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে কোন মন্ত্রণালয়ের আওতায় পড়ে, সেটিও নির্ধারণের নির্দেশ দেন যাতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে।

এক কমিশন সদস্য জানান, অনেক জড়িত কর্মকর্তা অনুশোচনায় ভুগছেন এবং আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্যে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। দুজন লিখিত চিঠিও দিয়েছেন, যা গণভবনে পাওয়া গেছে এবং তৎকালীন সেনাপ্রধান সে বিষয়টি স্বীকারও করেছেন।

Nagad

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১,৮৫০টি অভিযোগ জমা পড়েছে, এর মধ্যে ১,৩৫০টি যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগের সংখ্যা ৩,৫০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

তারা জানান, গুমের শিকারদের মধ্যে এখনো তিন শতাধিক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। এই পরিবারগুলোর ব্যাংক লেনদেনের সুবিধার্থে আইন সংশোধনের আহ্বান জানান কমিশন প্রধান। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সাত বছর নিখোঁজ থাকলে তাকে মৃত ধরা যায়, এটি কমিয়ে পাঁচ বছর করার সুপারিশ করছি।’

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস কমিশন সদস্যদের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, ‘আপনারা ভয়-ভীতি ও হুমকি উপেক্ষা করে কাজ করে যাচ্ছেন। এদেশের মানুষের জন্য আপনারা অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।’