মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৩ অপরাহন, জুলই ২১, ২০২৬

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবন অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করার সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে কংগ্রেসের ডাকা কর্মসূচিতে এ ঘটনা ঘটে।

দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ তাদের পথরোধ করে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা সড়কে অবস্থান নিলে পুলিশ চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাহুল গান্ধী সরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে জোর করে তুলে পুলিশের গাড়িতে নিয়ে যান। এ সময় ধস্তাধস্তিতে তার নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। আটক হওয়ার আগে সাংবাদিকদের উদ্দেশে রাহুল বলেন, ‘ভারতে গণতন্ত্র এখনই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।’

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষকে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের ওপর আক্রমণ মানে প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের ওপর আক্রমণ। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে জবাবদিহি করতেই হবে।’

বিক্ষোভ চলাকালে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ঘটনাস্থলে গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে কোনো সমঝোতা হয়নি।

কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য সৈয়দ নাসির হুসেন বলেন, সরকার আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ করলেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার দাবি থেকে তারা সরে আসেননি।

Nagad

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের দাবি, প্রথমে রাহুল গান্ধী সংসদে আলোচনার আশ্বাস পেলেই আন্দোলন প্রত্যাহারে সম্মত ছিলেন। পরে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের নতুন শর্ত যুক্ত করেন। এর পরই পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়।

বিভিন্ন নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত মে মাস থেকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়। সোমবার ওই প্ল্যাটফর্মের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

দিল্লি পুলিশের দাবি, সোমবারের সংঘর্ষে ১১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে কংগ্রেসের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমাতে সরকার বলপ্রয়োগ করেছে।

এ ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ তুলে কংগ্রেসকে দায়ী করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।