যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক আলোচনায় বাংলাদেশের জন্য আশার সঞ্চার

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৪৭ পূর্বাহ্, জুলই ৩০, ২০২৫

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শুল্ক আলোচনার তৃতীয় দফার প্রথম দিনের বৈঠকে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কমানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে শুল্ক কত শতাংশ কমবে, সে বিষয়ে আলোচনা এখনও চলছে।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। তার সঙ্গে ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব নাজনীন কাওসার চৌধুরী। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ইউএসটিআরের সহকারী ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ ব্রেন্ডন লিঞ্চ। পুরো আলোচনার সমন্বয় করছে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান জানান, আমাদের ওপর যে পাল্টা শুল্ক আছে, তা কমবে—এ বিষয়ে আমরা ইউএসটিআর কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ইঙ্গিত পেয়েছি। তবে ঠিক কতটা কমবে, তা এখনও বলা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা জানান, আলোচনায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে। বেশিরভাগ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র একমত হয়েছে। তবে আরও দুই দিন আলোচনা বাকি রয়েছে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বড় পরিসরে আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে। সরকারি পর্যায়ে আগামী এক বছরে দেড় বিলিয়ন ডলারের গম, ডাল ও এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭ লাখ টন গম কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং আরও ২.২০ লাখ টন গমের আমদানির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানি এবং ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

Nagad

বেসরকারি খাত থেকেও ১.৫ থেকে ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলসহ দেশি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা মার্কিন রপ্তানিকারকদের সঙ্গে চুক্তির আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন।

সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বিত এই উদ্যোগের ফলে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।