ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ আজ, রাষ্ট্র সংস্কারে আসছে দিকনির্দেশনা

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১৬ পূর্বাহ্, গাস্ট ৫, ২০২৫

আজ ৫ আগস্ট, ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি। এই দিনে বহুল আলোচিত ও আকাঙ্ক্ষিত জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি এ ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

এ উপলক্ষে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ঢাকা শহরজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্পেশাল ড্রোন ড্রামা আয়োজন করা হয়েছে, যা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

সারাদেশ থেকে ছাত্র-জনতাকে ঢাকায় আনা হচ্ছে সরকারি ব্যবস্থাপনায়। দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে সকাল ৯টায়। দিনটি উপলক্ষে আজ সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির সব সার্কেল অফিস নিজ নিজ এলাকায় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও এ উপলক্ষে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন রাখা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার বাণী
ঐতিহাসিক দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বৈষম্যমূলক ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। তাদের ত্যাগ জাতির ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে।’

তিনি শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব।’

Nagad

প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলেন, ‘৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন। টানা ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের বিজয়ের দিন। এই বিপ্লবের সুযোগে আমরা একটি নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণের পথ পেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী অপশক্তি এখনও সক্রিয়। তাই দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে রক্ষা করতে হবে। একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনই এখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অঙ্গীকার।’

কী থাকছে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’-এ?
ঘোষণাপত্রের বিষয়বস্তু অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, এতে ২৬-২৭টি দফা থাকবে। উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো: শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলের অবিচার, দমন-পীড়ন, দুর্নীতি ও বৈষম্য তুলে ধরা হবে, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি-সহ বিরোধী দলগুলোর ভূমিকার স্বীকৃতি থাকবে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও জনগণের অংশগ্রহণের উল্লেখ থাকবে, এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকারকে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হবে
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫-এর বাকশাল, আশির দশকের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ও নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান—সবগুলো প্রেক্ষাপট যুক্ত থাকবে, জুলাই গণহত্যার বিচার, শহীদদের স্মৃতি রক্ষা ও আহতদের পুনর্বাসনের অঙ্গীকার থাকবে, আওয়ামী লীগ আমলের প্রহসনের নির্বাচন, গুম-খুন, অর্থপাচার, কোটাভিত্তিক বৈষম্য তুলে ধরা হবে, সর্বশেষ দফায় বলা থাকবে: এই ঘোষণাপত্র ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে বিবেচিত হবে।

এই ঘোষণাপত্রকে নতুন সংবিধানের অংশ করার প্রস্তাব ইতোমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। তবে এ বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধও রয়েছে।