সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ হতে পারে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪৮ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তাঁর আশঙ্কা, চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের শুরুর দিকে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আঁচল ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, মঙ্গলবার থেকে দেশব্যাপী ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ এবং অক্টোবরের শুরুর দিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিন মাসের বিশেষ সচেতনতামূলক অভিযান

ডেঙ্গু মোকাবিলায় তিন মাসব্যাপী জনসচেতনতামূলক অভিযান শুরু করা হবে বলে জানান ডা. এম এ মুহিত। এতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। তিনি বলেন, ঘরবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। একই সঙ্গে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে কাজ করবে। এর পাশাপাশি আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী তিন মাসের বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি শুরুর কথা রয়েছে।

Nagad

প্রশিক্ষণ পেয়েছেন প্রায় ৩ হাজার চিকিৎসক

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের মূল লক্ষ্য দুটি—আক্রান্তের সংখ্যা কমানো এবং মৃত্যুর হার কমানো। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে হাসপাতালগুলোতে শয্যা, স্যালাইন ও পরীক্ষার কিটের সংকট যাতে না হয়, সে জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বর্তমান রোগীর হারের ভিত্তিতে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন মজুত রয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যাও চালু করা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা আরও বাড়লে প্রয়োজনে অন্যান্য শয্যা পুনর্বিন্যাস করে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে।

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সময়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। প্রয়োজন হলে এসব হাসপাতালকে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো যাবে না বলেও সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী। হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা রাখারও আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৭১ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩০ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৫ হাজার ৪৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে।