সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের দুর্নীতি মামলা

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৪৫ অপরাহন, গাস্ট ৬, ২০২৫

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল হুদা (বাঁ থেকে)। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে মিথ্যা হলফনামা দিয়ে ১০ কাঠার প্লট নেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল হুদাসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (৬ আগস্ট) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপ পরিচালক (মিডিয়া) আকতার হোসেন।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক তার দায়িত্বে থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নেন। যদিও তার নামে রাজধানী ঢাকায় পূর্ব থেকে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ১৮ কাঠার জমিতে ছয়তলা একটি ভবন ছিল। এরপরও তিনি রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহায়তায় মিথ্যা তথ্য ও হলফনামা দিয়ে প্লট বরাদ্দ নেন, যা অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে বলে জানায় দুদক।

২০০৯ সালে সুদসহ প্রথম কিস্তির অর্থ পরিশোধ না করায় বরাদ্দ বাতিল হলেও পরবর্তীতে চার লাখ ৭৪ হাজার টাকা সুদ মওকুফ করে পুনরায় প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন— রাজউকের সদস্য (অর্থ) ও সদস্য (এস্টেট) আ ই ম গোলাম কিবরিয়া, সদস্য (অর্থ) মো. আবু বক্কার সিকদার, সদস্য (পরিকল্পনা) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সিকদার, সদস্য (এস্টেট) আখতার হোসেন ভুঁইয়া, সাবেক যুগ্ম সচিব ও সদস্য (উন্নয়ন) এম মাহবুবুল আলম, সদস্য (প্রশাসন ও ভূমি) নাজমুল হাই।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬৩, ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Nagad

দুদক বলছে, সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় একজন বিচারপতির এই ধরনের আচরণ দৃষ্টান্তমূলক অপরাধ এবং তা দেশের বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থার জন্য হুমকি।