‘কোপানোর ভিডিও ডিলিট না করায় সাংবাদিক তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা’

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ৪:১৬ অপরাহন, গাস্ট ৯, ২০২৫

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার ড. নাজমুল করিম জানিয়েছেন, বাদশা নামের এক ব্যক্তিকে কোপানোর ভিডিও ডিলিট না করায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের আগে পারুল আক্তার ওরফে গোলাপী নামের এক নারীকে ব্যবহার করে ‘হ্যানি ট্র্যাপ’ করারও চেষ্টা হয়েছিল।

শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে জিএমপি সদর দফতরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে কমিশনার এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাদশা নামে এক ব্যক্তি একটি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে ২৫ হাজার টাকা তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় পারুল আক্তার ওরফে গোলাপী তাকে বিরক্ত করতে থাকেন। একপর্যায়ে বাদশা ওই নারীকে ঘুষি মারলে গোলাপীর সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাদশাকে কোপায়। আহত বাদশা দৌড়ে পালানোর সময় একদল সন্ত্রাসী তাকে ধাওয়া দেয়। এই ঘটনাটি ভিডিও করছিলেন সাংবাদিক তুহিন।

ভিডিও ধারণের বিষয়টি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা তুহিনকে ভিডিও মুছে ফেলতে চাপ দেয়। কিন্তু তিনি তা না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। আহত তুহিন পাশের একটি মুদি দোকানে আশ্রয় নিলেও সন্ত্রাসীরা সেখানে ঢুকে তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে।

জিএমপি কমিশনার জানান, এ ঘটনায় জড়িত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে—যার মধ্যে ছয়জনকে পুলিশ ও একজনকে র‌্যাব-১ গ্রেফতার করেছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে মোট আটজনকে চিহ্নিত করা হয়, বাকি একজনকে ধরতে অভিযান চলছে।

তিনি বলেন, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সন্ত্রাসী কেটু মিজানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৫টি মামলা আছে।

Nagad

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘গাজীপুর মহানগরীতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম জনবল রয়েছে। এই সীমিত জনবল দিয়ে বিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ রাখতে হচ্ছে।’ তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদ হোসেন ভূইয়া, মো. রবিউল হাসান, এস এম আশরাফুল আলম ও এস এম শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।