দেশের মানুষ চায় সামনের দিনগুলো আরও ভালো হোক : তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এক বছর আগে ৫ আগস্ট দেশে বহু প্রত্যাশিত একটি পরিবর্তন হয়েছিল, যা দেশের মানুষকে বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এরপর থেকে তারা আশা করছে সামনের দিনগুলো আরও ভালো হবে। তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষই পরিবর্তন চায়। বাস্তবতা হলো মুহূর্তে সব ভালো হয়ে যাবে না, তবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। দেশের মানুষের সামনে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করা জরুরি।
শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ‘ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (ড্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমি গ্যারান্টি দিয়ে একটি কথা বলতে পারি, যে দেশগুলোকে ভালো হিসেবে তুলনা করি বা ভালো হিসেবে বলি, উন্নত দেশ হিসেবে বলি। আমাদের আশপাশেও কয়েকটি ভালো ভালো দেশ আছে। আপনারা যখন সেখানে কাজে কাজে গিয়েছেন, একটি হলেও ছোট্ট দীর্ঘশ্বাস ফেলেছেন– ইশ। যখন সে দেশের রাস্তায় নেমেছেন, এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়েছেন, কোথাও গিয়েছেন, আশপাশ দেখে ভেবেছেন- ইশ, বাংলাদেশটা যদি এমন করা যেত। এই চিন্তাটা আপনাদের প্রত্যেকের মাথায় এসেছে। তবে শুধু একটি রাজনৈতিক দল বা সরকারের পক্ষে সেটি সম্ভব নয়।
তারেক রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশ আমাদের সকলের। তাই দেশকে গড়তে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রত্যেকে যদি একটু করে অবদান রাখে, তবেই দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যে ৩১ দফা দিয়েছি, তা শুধু একটি রাজনৈতিক দল কিংবা সরকারের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। যারা সরকারে থাকবেন, তাদের সহযোগিতা করতে হবে এবং দিকনির্দেশনা দিতে হবে। তবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি রক্ষা করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি দাবি করেন, জুলাই-আগস্টেই দেড় হাজার মানুষ গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন, আর গত ১৫ বছরে এই সংখ্যা কয়েক হাজারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে কয়েক লাখ মানুষ আহত হয়েছেন। এই মানুষগুলোর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেই আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, বলেন তিনি।
রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক চর্চার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে হয়তো সম্পূর্ণভাবে একটি দলের ভেতরে গণতন্ত্র চালু হয়নি। তবে আমাদের নেতারা যে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেই উত্তরাধিকার বজায় রেখে ভিত মজবুত করতে হবে—স্থানীয় থেকে জাতীয় এবং দলের ভেতরে সব পর্যায়ে।

