গাজা সিটির ভেতরে প্রবেশ করলো ইসরায়েলি বাহিনী, নিহত ৬৩ ফিলিস্তিনি

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৫১ পূর্বাহ্, গাস্ট ২৪, ২০২৫

গাজা সিটির আরও গভীরে প্রবেশ করেছে ইসরায়েলি সেনারা। এ সময় টানা হামলায় একদিনে অন্তত ৬৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে চিকিৎসা সূত্র। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) আল-জাজিরা অ্যারাবিকের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরায়েলি ট্যাংক গাজার সাবরা এলাকায় প্রবেশ করেছে। সাবরা শহরের জেইতুন অঞ্চলের কাছে অবস্থিত, যা গত এক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রধান লক্ষ্যবস্তু।

শনিবার ভোরে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের উত্তর-পশ্চিমে আসদা এলাকায় বাস্তুচ্যুত পরিবারের তাঁবুতে গোলাবর্ষণ করে ইসরায়েলি সেনারা। এতে অন্তত ১৬ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ছয়জন শিশু।

একইদিন মানবিক সহায়তা সংগ্রহ করতে গিয়ে অন্তত ২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। খান ইউনিসের দক্ষিণ-পূর্বে ‘মোরাগ অ্যাক্সিস’-এর কাছে একজন এবং ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত নেতজারিম করিডরের কাছে আরও একজন ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে প্রাণ হারান।

অনাহারে মৃত্যু ও দুর্ভিক্ষ
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অপুষ্টি ও অনাহারে আরও আটজন মারা গেছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশু। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় অনাহারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮১ জনে। তাদের মধ্যে অন্তত ১১৪ জন শিশু।

শুক্রবার জাতিসংঘ গাজায় প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ পরিস্থিতিকে “মানবসৃষ্ট বিপর্যয়” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

Nagad

বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা নিরীক্ষা সংস্থা আইপিসি জানিয়েছে, গাজার প্রায় ৫ লাখ ১৪ হাজার মানুষ বর্তমানে দুর্ভিক্ষে ভুগছে। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা বেড়ে ৬ লাখ ৪১ হাজার ছাড়াতে পারে।

‘অনাহার প্রকৌশল’ অভিযোগ
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, জাতিসংঘের ঘোষণা প্রশংসনীয় হলেও অনেক দেরিতে এসেছে। তাদের ভাষায়, *“অনাহারের প্রকৌশল গণহত্যার অংশ”—*যার মধ্যে স্বাস্থ্যখাত ধ্বংস, গণহত্যা ও প্রজন্ম নিশ্চিহ্ন করার নীতি অন্তর্ভুক্ত।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গত ২৭ মে থেকে ইসরায়েল নিজস্ব সহায়তা সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করে। তবে জাতিসংঘ ও অন্যান্য প্রধান ত্রাণ সংস্থা একে অবৈধ ও মানবিক নীতির পরিপন্থি বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এ ব্যবস্থার আওতায় সহায়তা নিতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭৬ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৬০০ জনে।