ঢাকা বাইপাস চালু, নিজের নাম দেখে উপদেষ্টার ক্ষোভ
গাজীপুরের ভোগড়া থেকে নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে চালু হয়েছে।সংগৃহীত ছবি
গাজীপুরের ভোগড়া থেকে নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে চালু হয়েছে। রোববার (২৪ এপ্রিল) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়, তবে সড়কে স্থাপিত ফলকে নিজের নাম দেখে চটে যান সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, এটি কি আমার বাপের টাকায় করা? তাহলে ফলকে কেন আমার নাম থাকবে?
উপদেষ্টা দ্রুত ফলক পরিবর্তনের নির্দেশও দেন। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি ও অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সড়ক নির্মাণে ২০–৩০ শতাংশ খরচ কমানো সম্ভব। ঢাকার যানজট কমানো এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে এই এক্সপ্রেসওয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে প্রকল্পের পূর্ণ সুফল পেতে অপেক্ষা করতে হবে অন্তত দেড় বছর।
ফাওজুল কবির জানান, ঢাকার বড় শহরগুলোর যানজট কমাতে বাইপাস সড়কের বিকল্প নেই। মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান হাতে নেওয়া হয়েছে, যেখানে সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগকে একত্রে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়েতে ৯ ক্যাটাগরির যানবাহন চলাচল করবে। বড় পণ্যবাহী ট্রাকের টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০০ টাকা এবং প্রাইভেট কারের জন্য ১৫০ টাকা। তবে পুরো সুবিধা পেতে হবে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত।
প্রকল্পটি ২০২১ সালে শুরু হয়, প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে থাকছে ৪০টি আন্ডারপাস, ৩টি ব্রিজ, একটি ইন্টারসেকশন এবং একটি ফ্লাইওভার। এক্সপ্রেসওয়ে পুরোপুরি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যবাহী যান ঢাকায় প্রবেশ না করেই দ্রুত উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে যেতে পারবে, যার ফলে কমবে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এক্সপ্রেসওয়েতে ব্যবহার হচ্ছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। ধাপে ধাপে যুক্ত করা হবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও ক্লাউড কম্পিউটিং সিস্টেম, যা দেশের যোগাযোগ খাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

