আমাদের অবস্থা এমন, মুসল্লির চেয়ে ইমাম বেশি: গয়েশ্বর
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে আমাদের অবস্থা এমন, ‘মুসল্লির চেয়ে ইমাম বেশি।’ জুলাই বিপ্লবের পর নেতাকর্মীদের আকাঙ্ক্ষা ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। যাদের সঙ্গে একসময় জেল খেটেছেন, তারাও এখন ব্যক্তিগত স্বার্থে এক সুরে কথা বলছেন না।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে হিউম্যান রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস ফাউন্ডেশন (হিউরাফ) আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লব এবং আগামীর গণতন্ত্র ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
গয়েশ্বর বলেন, ফ্যাসিবাদ ও মৌলবাদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে জনগণের জন্য রাজনীতি করতে হবে, কেবল এমপি-মন্ত্রী হওয়ার জন্য পাগল হওয়া যাবে না। নেতাদের প্রতি তিনি নিঃস্বার্থভাবে গণতন্ত্র উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে গয়েশ্বর রায় বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ ৯০ দিন হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ অনন্তকাল। যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ৯০ দিনে নির্বাচন করতে পারে, তাহলে তাদের দুই বছর লাগে কেন? এই সরকার সংস্কারের গান গাইতে গাইতে অনেক কুসংস্কার করে দিচ্ছে।বিদেশ থেকে বুদ্ধিমান লোক আনা হয়েছে। আর এত বুদ্ধিমান লোক এক জায়গায় হলে যা হয় তাই হয়েছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, মৌলবাদীরা বেহেস্তের টিকেট বিক্রি করছে। তাদের সঙ্গে থাকলে আপনি বেহেস্তে যাবেন, না থাকলে দোজখে যাবেন। অথচ নিজেরা বেহেস্তে যাবে কিনা- সেটা তারা জানে না।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটছে। আমরা ফ্যাসিবাদের থেকে মুক্তি পেয়েছি। কিন্তু গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে এখন সাম্প্রদায়িক উগ্র-উন্মাদনার সৃষ্টি শুরু হয়েছে। যেটার মাধ্যমে মব তৈরি হয়। সাম্প্রদায়িকতা হলো ফ্যাসিবাদের চেয়ে দ্বিগুন কঠিন ও জনবিরোধী। এই আধুনিক বিশ্বে মুক্তচিন্তা, প্রতিভার বিকাশ তারা করতে দেবে না।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে প্রায় ৬০টি দল ৩১ দফার ভিত্তিতে একত্রিত হলেও ‘পিআর’ ব্যবস্থার কোনো উল্লেখ ছিল না। এখন যারা এ দাবি তুলছেন, তখন তারা কেন তা অন্তর্ভুক্ত করেননি?
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফাত আলী সপু প্রমুখ।

