অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ব্যবহার রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৫২ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

মানুষ ও প্রাণীর স্বাস্থ্যের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ব্যবহার রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ গাইডলাইন (ভিএজি) বাস্তবায়ন’ বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কর্মশালাটি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মাল্টি-পার্টনার ট্রাস্ট ফান্ড (এএমআরএমপিটি) প্রকল্পের সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একইভাবে প্রাণিসম্পদ খাতেও এর অপব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তিনি আরও বলেন, প্রান্তিক খামারিরা অনেক সময় দ্রুত রোগ নিরাময়ের আশায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন, তবে এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতনতা না থাকায় এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কোনো ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে তদারকি ও জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, ভেটেরিনারি চিকিৎসক, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও খামারিদের সমন্বিতভাবে কাজ করলে নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও বাংলাদেশের প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. মো. বয়জার রহমান।

Nagad

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউওএএইচ) জাতীয় এএমআর পরামর্শক ড. মো. হাবিবুর রহমান। এছাড়া অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর), ওয়ান হেলথ এবং দায়িত্বশীল অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেন।

কর্মশালায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউওএএইচ), খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।