লোকচক্ষুর আড়াল ভেঙে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীর, নেপথ্যে এআই প্রযুক্তি
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার পর সম্প্রতি লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশে যাত্রাকালে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে যাত্রা করেছিলেন বেনজীর আহমেদ। দুবাইয়ে ট্রানজিটের সময় বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তিতে তার পরিচয় শনাক্ত হয়।
সূত্রের দাবি, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তার মুখমণ্ডলের তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধীদের ডাটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। এ সময় বেনজীর আহমেদের নামে জারি করা ইন্টারপোলের রেড নোটিশ শনাক্ত হয়। পরে দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল সমন্বয় শাখা বিষয়টি যাচাই করে তাকে আটক করে এবং পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখায়।
তবে এ বিষয়ে এখনো দুবাই পুলিশ, ইন্টারপোল কিংবা বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করে। এ লক্ষ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল ইন্টারপোলে আবেদন পাঠায়।
তিনি বলেন, ইন্টারপোল ২০২৫/২৩৯ নম্বর ফাইল এবং ৫৭৪/২০২৫ কন্ট্রোল নম্বরের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। ওই নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, গত ১২ জুন আবুধাবিভিত্তিক এনসিবি থেকে পাঠানো এক ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয় যে, দুর্নীতি মামলার আসামি বেনজীর আহমেদকে আমিরাতের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক রয়েছেন।
একসময় দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন বেনজীর আহমেদ। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে র্যাবের মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
২০২৪ সালে তার বিপুল সম্পদের তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। আদালতের নির্দেশে বিভিন্ন সময়ে জমি, ফ্ল্যাট, কোম্পানির শেয়ার ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৮ মার্চ ঢাকার একটি আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে তা কার্যকরের নির্দেশ দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

