শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান, গণিত ও এআই বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক, উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তি-সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজধানীর ফরিদাবাদে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, গণিত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মহাকাশবিষয়ক একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও গণিত ক্লাবের উদ্যোগে গত ১৩ জুন আয়োজিত এই কর্মশালায় অংশ নেয় প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী। গণিত অলিম্পিয়াড, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিজ্ঞান ও মহাকাশ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী কর্মশালায় গণিত অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের কৌশল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গাণিতিক ভিত্তি, রাতের আকাশে তারা চেনার উপায় এবং প্রকৃতির বিভিন্ন বৃক্ষ সম্পর্কে জানার মতো বিষয়গুলো হাতে-কলমে উপস্থাপন করা হয়।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) সুভাষ চন্দ্র রায় বলেন, ‘শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বিশ্বকে জানতে হলে বিজ্ঞান ও গণিত চর্চার বিকল্প নেই। এ ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
বিজ্ঞান ও গণিত ক্লাবের সভাপতি মমতাজ বেগম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা ও অনুসন্ধিৎসু মন বিকাশে এ ধরনের কর্মশালার গুরুত্ব অনেক। ভবিষ্যতে ক্লাবের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে।’
কর্মশালার সার্বিক সমন্বয় করেন ক্লাবের সদস্য সচিব মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। অলিম্পিয়াড ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তারা যেন নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন।’
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির একাডেমিক কাউন্সিলর জাহিদ হোসাইন খান। তিনি শিক্ষার্থীদের সামনে সহজ ও সাবলীল ভাষায় গণিতের বিভিন্ন ধারণা তুলে ধরেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পেছনের গাণিতিক কাঠামো ব্যাখ্যা করেন।
তিনি বলেন, ‘গণিত কোনো মুখস্থ করার বিষয় নয়, এটি চিন্তার ভাষা। বর্তমান বিশ্বের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মূল ভিত্তিও গণিত। তাই ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে নেতৃত্ব দিতে হলে শিক্ষার্থীদের গণিত, এআই ও মহাকাশবিজ্ঞানে দক্ষ হতে হবে।’
তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় বিশেষ ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন। এতে রাতের আকাশে নক্ষত্র ও তারা শনাক্ত করার কৌশল, মহাকাশ পর্যবেক্ষণের ইতিহাস এবং বিভিন্ন বৃক্ষ সহজে চেনার উপায় তুলে ধরা হয়।
কর্মশালায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুনায়রা বিনতে ওয়াসিম বলেন, ‘গণিত ও বিজ্ঞানকে এত মজারভাবে শেখা যায়, তা আগে বুঝিনি। বিশেষ করে আকাশে তারা দেখা ও গাছ চেনার অংশটি আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে।’
অন্য শিক্ষার্থী আবিদ উজ-জামান বলেন, ‘আমরা অনেকেই এআই টুল ব্যবহার করি, কিন্তু এর পেছনে গণিতের এত বড় ভূমিকা রয়েছে তা এই কর্মশালায় জানতে পেরেছি। এটি আমাদের নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে।’
কর্মশালা শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুডোকু, গণিতের ধাঁধা ও রুবিকস কিউব বিষয়ক বই উপহার দেওয়া হয়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের কর্মশালার আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

