‘চীনের সঙ্গে সমঝোতায় বাংলাদেশের নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আসবে’

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৫৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২৬

চীনের সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার খাতে ছয়টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশের নিউ মিডিয়া ও গণমাধ্যমে গুণগত পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

রোববার (২৮ জুন) চীনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলোর বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবে আমি চীন সরকারের সঙ্গে ছয়টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছি। এর মাধ্যমে দুই দেশের তথ্য ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘চীনের মতো প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত একটি দেশের সঙ্গে গণমাধ্যমের প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) গবেষণায় সহযোগিতার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

মন্ত্রী জানান, গত বৃহস্পতিবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট ছয়টি সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন তিনি।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী এবং দেশটির আইনসভার শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে বাংলাদেশ যে সম্মান ও গুরুত্ব পেয়েছে, তা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এর ইতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Nagad

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। চীনের আন্তরিকতা ও সহযোগিতার মনোভাব দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে।

মন্ত্রী জানান, বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও উল্লেখ করেছেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক গুণগতভাবে নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করবে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে প্রথমে মালয়েশিয়া এবং পরে চার দিনের সফরে চীন যান। সফরকালে তিনি দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেন। পরে বেইজিংয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর কয়েকজন উপদেষ্টা।