নদী থেকে দুই মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই: পুলিশ

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:১৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২৬

আশুলিয়া ও তুরাগ নদী থেকে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ। পুলিশ বলছে, দুটি ঘটনাই দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু। এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। পাশাপাশি নদী থেকে সাতটি মরদেহ উদ্ধারের গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৮ জুন) ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ‘তুরাগ নদী নিয়ে অপপ্রচার ও পুলিশের অবস্থান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।

তিনি জানান, গত ২৬ জুন রাত ১২টা ১০ মিনিটে আশুলিয়া থানা পুলিশ স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় গরুহাটা ঘাটসংলগ্ন আশুলিয়া নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে নিহতের ভাই সালাহউদ্দিন তাকে মো. সুমন (১৭) হিসেবে শনাক্ত করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, গত ২২ জুন সুমন ২০ থেকে ২২ জন বন্ধুর সঙ্গে তুরাগ নদীতে নৌভ্রমণে যান। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আশুলিয়ার গরুর হাট ঘাট এলাকায় নৌকা থেকে নামার সময় অসাবধানতাবশত নদীতে পড়ে যান। সাঁতার না জানায় তিনি পানিতে তলিয়ে যান। কয়েক দিন অনুসন্ধানের পর ২৬ জুন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, নিহতের ভাইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আশুলিয়া থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।

এ ছাড়া গত ২৪ জুন সাভারের রয়েল সিটি খেয়াঘাট এলাকায় তুরাগ নদীতে গোসল করতে নেমে রনি (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হন। প্রায় ৩০ মিনিট পর স্থানীয়রা পানির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে শাহআলী থানা পুলিশ ও আমিনবাজার নৌ থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনাতেও একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Nagad

শামীমা পারভীন বলেন, দুটি ঘটনাই দুর্ঘটনাজনিত হলেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে।

তিনি জানান, অপপ্রচারকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। একই সঙ্গে জনসাধারণকে গুজব ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ধরনের অপপ্রচার সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে তা ঢাকা জেলা পুলিশকে জানানোরও অনুরোধ করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় অনুসন্ধান করা পুলিশের দায়িত্ব নয়। কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, সেটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়াই পুলিশের দায়িত্ব। এ দুই ঘটনায় নিহতদের পরিবারও কোনো অপরাধের অভিযোগ করেনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, চলতি বছরের মার্চ থেকে মে—এই তিন মাসে ঢাকা জেলায় মোট ১৭০টি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।