জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক নয়, পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:১১ অপরাহন, জুলই ২৫, ২০২৬

দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় সাধারণ জ্বর ও ডেঙ্গু জ্বরের পার্থক্য বুঝে সতর্কতার সঙ্গে ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তাদের মতে, জ্বর হলেই নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সাধারণ জ্বরে প্যারাসিটামল সেবন করা যেতে পারে। তবে জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা, শরীর ও গিঁটে ব্যথা এবং ত্বকে র‍্যাশ দেখা দিলে তা ডেঙ্গুর লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ এবং অ্যান্টিবায়োটিক সেবন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তাদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের ৫৯টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। চলতি বছরের ২৩ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ২০ জন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১০ হাজার ৯১১ জন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, জ্বর হলে শুধু প্যারাসিটামল সেবন করা উচিত। কোনোভাবেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা ঠিক নয়। বিশেষ করে ডেঙ্গুর লক্ষণ থাকলে নিজে থেকে ওষুধ সেবন ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের জ্বর হলে পর্যাপ্ত তরল খাবার, ডাবের পানি ও শরবত খাওয়াতে হবে। বাইরে বের হলে ফুলহাতা জামা, ফুলপ্যান্ট ও মোজা পরিয়ে মশার কামড় থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

Nagad

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে করোনা, ডেঙ্গু ও ডায়রিয়াসহ একাধিক ভাইরাসজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তাই ভয় না পেয়ে উপসর্গ দেখা দিলেই পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, প্রতি বছরই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাময়িক উদ্যোগ নেওয়া হয়। কার্যকরভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এডিস মশা সাধারণত স্বচ্ছ ও অল্প গভীর পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই ফুলের টব, টায়ার, ছাদ বা বারান্দায় জমে থাকা পরিষ্কার পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া সূর্যোদয়ের পরের দুই ঘণ্টা এবং সূর্যাস্তের আগের দুই থেকে তিন ঘণ্টা এডিস মশার কামড়ানোর প্রবণতা সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময়ে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী বলেন, বর্তমানে ডেন-৩ (DENV-3) সেরোটাইপের কারণে ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে জটিলতা দ্রুত বাড়তে পারে। তাই জ্বরকে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা, চিকিৎসা গ্রহণ এবং বাসাবাড়ির আশপাশে কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। খবর বাসসের।