তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় সম্মিলিত পদক্ষেপের আহ্বান আইসিটি মন্ত্রীর

তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিবেদক:তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ১০:১৩ পূর্বাহ্, গাস্ট ১৯, ২০২৬

বাংলাদেশে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা, জনআস্থা ও সামাজিক সংহতি জোরদার করতে সরকার, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ, তরুণ প্রজন্ম ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকায় ‘ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ইন বাংলাদেশ: পলিসি, প্ল্যাটফর্ম অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড কালেক্টিভ অ্যাকশন’ শীর্ষক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তর নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তি, যোগাযোগ, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি সেবা গ্রহণে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে আস্থাভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে নির্ভরযোগ্য ও সঠিক তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা শুধু অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর সঙ্গে জনআস্থা, সামাজিক সংহতি এবং নাগরিকদের অর্থবহ অংশগ্রহণ সরাসরি সম্পর্কিত। একটি নিরাপদ ও আস্থাভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার, প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

দ্রুত পরিবর্তনশীল তথ্য পরিবেশে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং প্রচলিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে মানসম্মত কনটেন্টের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ক্ষতিকর, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কনটেন্ট সমাজে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের ওপর এর প্রভাব বেশি হতে পারে।

তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আরও নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক তথ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব অংশীজনের সহযোগিতা প্রয়োজন।

Nagad

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আস্থাভিত্তিক ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে গণমাধ্যম, প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ও সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।

দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেন, দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সময়ে সুশাসন ও জনআস্থা নিশ্চিত করতে তথ্য যাচাই, বিশ্বাসযোগ্যতা ও নির্ভুলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিস্তৃত করলেও একই সঙ্গে অপতথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

তথ্য প্রকাশের আগে তা যাচাই করার দায়িত্ব সাংবাদিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্য ডেইলি স্টার নৈতিক সাংবাদিকতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তথ্য যাচাই ও ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম আরও জোরদার করছে বলে জানান মাহফুজ আনাম।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত ইউএনডিপি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণের তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, পর্যালোচনা করা অনলাইন কনটেন্টের অর্ধেকের বেশি মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ধারণ করেছে। এ ছাড়া এক-পঞ্চমাংশের বেশি কনটেন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-নির্ভর কারসাজির উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন, বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন, ইউএনডিপি, ইউনেস্কো, ইউএনএফপিএ, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

ইউএনডিপি বাংলাদেশ ও অংশীদারদের উদ্যোগে এবং জার্মান সরকারের সহযোগিতায় নীতি সংলাপটি আয়োজন করা হয়।