রাজধানীর প্রধান সড়কে চলবে না অটোরিকশা, নিবন্ধন পাবে সর্বোচ্চ ৪ যাত্রীর

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২৭ অপরাহন, গাস্ট ৩০, ২০২৬

রাজধানীর প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত ও ইলেকট্রিক অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলের জন্য সর্বোচ্চ চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশা নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। ছয় যাত্রী বহনকারী ই-রিকশা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নিবন্ধন পাবে না।

রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমানের সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে দ্রুত এটি কার্যকর করা হবে। নীতিমালা কার্যকর হলে ই-রিকশা ও ইলেকট্রিক রিকশা একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মধ্যে আসবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, ই-রিকশা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় অথবা জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখার প্রত্যয়ন এবং ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস সনদ বাধ্যতামূলক করা হবে। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা এসব যান নিবন্ধন দেবে।

ঢাকায় ই-রিকশা চলাচলের জন্য রাজধানীকে আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তরে চারটি এবং দক্ষিণে চারটি জোন থাকবে। প্রতিটি জোনের ই-রিকশায় আলাদা রং থাকবে এবং একটি জোনের অনুমোদিত ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না। কোন যান কোন রুটে চলবে, তা সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে নির্ধারণ করবে। এসব যানবাহনে জিও-ফেন্সিং ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

মীর শাহে আলম বলেন, রাজধানীর মূল সড়কে কোনো ই-রিকশা চলতে দেওয়া হবে না। এসব যান শুধু নির্ধারিত জোনের অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচল করবে।

Nagad

তিনি আরও জানান, ঢাকায় নিবন্ধনের ক্ষেত্রে দুই ও চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশা অনুমোদন পাবে। ছয় যাত্রী বহনকারী কোনো ই-রিকশা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নিবন্ধনের আওতায় আসবে না। তবে গ্রামীণ এলাকা ও জেলা শহরের গ্রামীণ সড়কে দুই, চার ও ছয় যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশা নিবন্ধন পেতে পারে।

এ ছাড়া ই-রিকশার চার্জিং পয়েন্টকেও লাইসেন্সের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে ই-রিকশা চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে এবং ভবিষ্যতে তা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ই-রিকশা তৈরির কারখানাগুলোকেও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। বুয়েট বা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী উৎপাদন এবং সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা থেকে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে।